বনানীর ‘করিম ভিলা’য় স্পা সেন্টারের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর বনানীর একটি আবাসিক ভবনে বিউটি পার্লার ও স্পা সেন্টারের আড়ালে মাদক বিক্রি এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ‘করিম ভিলা’ নামের ওই ভবনের কয়েকটি ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিবর্গ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, করিম ভিলায় অবস্থিত পার্লার ও সেলুনগুলোকে সামনে রেখে মূল ব্যবসার আড়ালে মাদক বিক্রি ও অনৈতিক চুক্তি সম্পাদন করা হয়। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ সেবা প্রতিষ্ঠান মনে হলেও, সেখানে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রথমে দরদাম করা হয় এবং পরবর্তীতে ভবনের নির্ধারিত ফ্ল্যাটে পাঠানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় মাদক হিসেবে ইয়াবা ও ফেনসিডিল সরবরাহের তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি গ্রাহক ভিড়ানোর কাজে কয়েকটি দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে বলেও জানা গেছে।
উক্ত কার্যক্রমের সঙ্গে সোলেমান ওরফে সাকিব ও মাসুদ নামের দুই ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তবে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও অন্যান্য দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।
আবাসিক এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর অপরিচিত লোকজনের যাতায়াত বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এমন কর্মকাণ্ডের কারণে মাদকের বিস্তার, সামাজিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট নজরদারি ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রতিবেদকের দাবি অনুযায়ী, ছদ্মবেশে অনুসন্ধানকালে এক ব্যক্তির সঙ্গে মাদকের মূল্য সম্পর্কিত কথাবার্তা রেকর্ড করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তা আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে করিম ভিলার ব্যবস্থাপকের কাছে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। এছাড়া যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আবাসিক ভবনে বেআইনি কোনো কার্যক্রমের প্রমান পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয়, প্রতিষ্ঠানের বৈধ অনুমোদন এবং নেপথ্যের সহযোগীদের বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তীতে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা হবে।




