আফগানিস্তানে ২৪ লাখ মেয়ের মাধ্যমিক শিক্ষায় বাধা: ইউনেস্কো

আফগানিস্তানে ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে প্রায় ২৪ লাখ মেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত অবস্থায় রয়েছে।


সম্প্রতি জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো (UNESCO) এক প্রতিবেদনে এ উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করে।

সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পাঁচ বছর পর আফগান সমাজে নারী শিক্ষার এই বিশাল ঘাটতি দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলবে।

ইউনেস্কোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী:

  • চলতি বছর আফগানিস্তানে মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত মেয়ের সংখ্যা আগের চেয়ে প্রায় ২ লাখ বেড়েছে

  • নিষেধাজ্ঞা যদি এভাবে বহাল থাকে, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ২৪ লাখ থেকে লাফিয়ে প্রায় ৪০ লাখে পৌঁছাতে পারে।

ইউনেস্কোর ‘জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষা’ বিষয়ক কর্মসূচির সমন্বয়কারী হোদা জাবেরিয়ান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, আফগানিস্তানই বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে নারী ও মেয়েদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে পাঁচ বছরের এই বিরতি কেবল সাময়িক কোনো বিরতি নয়, বরং এটি একটি শিশুর সম্পূর্ণ মাধ্যমিক শিক্ষা অর্জনের একটি পুরো ধাপের সমান।

দীর্ঘ দুই দশকের যুদ্ধ শেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগ করলে ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। প্রাথমিক পর্যায়ে নারীদের শিক্ষা ও অধিকার বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ২০২২ সালের মার্চ মাসে মেয়েদের মাধ্যমিক স্কুলে যাওয়া বন্ধ করা হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ডিসেম্বরে নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তৎকালীন সময়ে এগুলোকে ‘সাময়িক ব্যবস্থা’ বলা হলেও সাড়ে চার বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি।

শিক্ষা গ্রহণের ওপর এ বিধিনিষেধের পাশাপাশি নারীদের কর্মসংস্থান ও মুক্ত চলাচলেও কঠোর নিয়ম চাপানো হয়েছে। পার্ক, জিমনেসিয়াম এবং বিউটি পার্লারগুলোতেও নারীদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মানবাধিকার ও স্বাধীনতার ওপর এই ব্যাপক কড়াকড়িকে জাতিসংঘ ‘লিঙ্গভিত্তিক বর্ণবাদ’ (Gender Apartheid) হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

আন্তর্জাতিক মহল এই বিধিনিষেধগুলোর কারণে তালেবান প্রশাসনের ওপর চাপ বজায় রাখলেও তালেবান কর্তৃপক্ষের দাবি— তারা নিজস্ব ইসলামি আইন ও আফগান সংস্কৃতির আলোকে নারীদের অধিকার রক্ষা করছে। ক্ষমতায় ফেরার পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হলেও এ পর্যন্ত কেবল রাশিয়া তালেবান প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক স্বীকৃতি দিয়েছে।

Related Articles

Back to top button