ফ্রান্সজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতা মোকাবিলায় ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন

জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, শিক্ষার্থীদের দাবি এবং সাম্প্রতিক সহিংস কর্মসূচির জেরে উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় দেশজুড়ে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ফ্রান্স সরকার। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নেতৃত্বাধীন সরকার দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নunez জানিয়েছেন, এবারের বিক্ষোভে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে এলিট পুলিশ ইউনিট, অশ্বারোহী বাহিনী, হেলিকপ্টার, ড্রোন, সাঁজোয়া যান এবং জলকামান ব্যবহার করা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “দাঙ্গাবাজ ও লুটতরাজকারীদের প্রতি কোনো নমনীয়তা দেখানো হবে না। সরকার কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করবে না।”

সরকার কেবল স্বীকৃত শ্রমিক ইউনিয়নগুলোকে সীমিত পরিসরে কর্মসূচির অনুমতি দিয়েছে। রাজধানী প্যারিসে রাতের কারফিউ আগামী সোমবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে এবং প্রধান শহরগুলোতে গণপরিবহন ও জনসমাগমে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

ফ্রান্সের জাতীয় ছাত্র ইউনিয়ন (ইউএনইএফ) এবং ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনকারীরা সরকারের বিধিনিষেধ সত্ত্বেও তাদের নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে শিক্ষার্থীরা প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর সাথে বৈঠক করলেও সন্তুষ্ট হতে পারেনি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকার তাদের বাকস্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করার অধিকারকে ‘পদদলিত’ করছে।

সরকারের এই কঠোর ও কর্তৃত্ববাদী অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তারা জানিয়েছে, সরকারের অতিরিক্ত বিধিনিষেধ জনগণের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকে বিপন্ন করে তুলছে। একই সাথে, আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহারে শিক্ষার্থী ও অপ্রাপ্তবয়স্করা আহত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW)।

নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে প্যারিসসহ প্রধান প্রধান শহরগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রখ্যাত ল্যুভর জাদুঘর এবং লুই ভুইতোঁ ফাউন্ডেশন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্বখ্যাত ‘আর্ট বাসেল’ শিল্পমেলা নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগেই সমাপ্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন আয়োজকরা।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহের সহিংস কর্মসূচির পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২,৭০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়।

Related Articles

Back to top button