৩ নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়: ট্রাম্প


আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে পুনরায় মার্কিন বাহিনী কোনো সামরিক হামলা চালাবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সাথে তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি সত্ত্বেও ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ইতিবাচক ও ফলপ্রসূভাবে এগোচ্ছে।
গত ৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ইরান বর্তমানে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং তাদের ওপর ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধগুলো কঠোরভাবে বলবৎ থাকবে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হলেও তার কোনোটিই ইরান কেন্দ্রিক নয়। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে কোনো নতুন হামলা পরিচালনা করবে না। তিনি আরও যোগ করেন, উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তারা একটি ইতিবাচক সমাধানের আশা করছেন।
বিভিন্ন জরিপের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের জনসমর্থনে প্রভাব ফেলেছে। রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান নীতিতে ট্রাম্পের পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন না।
সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন নির্বাচনের পর তেলের দাম কমবে, তবে সংঘাত থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।
যুদ্ধ বিরতি এবং আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ সচল করার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব পাঠালেও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে যে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ বা তাদের মজুত হস্তান্তর করবে না। অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনতে হবে।




