ফলের আড়ালে স্বর্ণ চোরাচালান: শাহজালালের কার্গো নিরাপত্তা ও সিন্ডিকেট নিয়ে তোলপাড়

মো. আরিফ হোসেন চৌধুরী: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ফলের চালানের কাঠের পাটাতনে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো শাখার নিরাপত্তা, পণ্য ছাড়করণ প্রক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

গত ১৯ জুলাই ২০২৬ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে কাস্টমস হাউস, ঢাকার অধীন কর্মকর্তারা আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সের গেট ৮(এ)-এর অভ্যন্তরে একটি ফলের চালান আটক করেন। চালানটির কাঠের সমতল পাটাতন স্ক্যান করে ১ কেজি ওজনের ১৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘Food Link’-এর স্বত্বাধীন মো. গোলাম মোস্তফাসহ অজ্ঞাত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। চালানটির সঙ্গে সিএন্ডএফ এজেন্ট ‘A. RAZZAQUE TRADING’ এবং ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার ‘FASTRACK CARGO SOLUTIONS LTD.’ যুক্ত ছিল।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ বিভাগের মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ কার্গো ভিলেজের নিরাপত্তা দুর্বলতার অভিযোগ নাকচ করলেও, কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হলো তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কাস্টমসের তথ্যমতে, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে মোট ৬০ কেজি ১৮৭ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনার পাশাপাশি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. মইনউদ্দিন লোটাসের বিরুদ্ধে অনিয়ম, ঘুষ-চাঁদাবাজি, রাজস্ব ফাঁকি ও রোস্টার কারচুপির অভিযোগে ৩৭৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র সামনে এসেছে।

এতে চীন থেকে আসা ১,৯২১ কেজি ইলেকট্রনিক পণ্যসহ অন্যান্য চালান জাল নথির মাধ্যমে অনিয়ম করে খালাসের গুরুতর অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে মইনউদ্দিন লোটাস সুনির্দিষ্ট জবাব না দিলেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যাচাই করছেন এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Back to top button