সরকারি চাকরি ছেড়ে সমন্বিত কৃষি খামারে সফলতার স্বপ্ন বুনছেন ইখতেয়ার

বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারের শিক্ষকতা ও ব্যাংকের উচ্চপদের নিরাপদ চাকরি ছেড়ে নিজের গ্রামে একটি টেকসই কৃষি উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন ইখতেয়ার উদ্দিন আহমেদ মুন্না।


কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরটেকী গ্রামে তিনি স্থাপন করেছেন ‘এমএম এগ্রো’ নামের একটি সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত কৃষি খামার। প্রায় দুই বছরের নিরলস শ্রমে খামারটি এখন সফলতার মুখ দেখেছে।

খামারটিতে একটি আধুনিক চক্রাকারে চারটি ভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা করা হচ্ছে:

  1. আধুনিক মৎস্য চাষ: ৪টি আধুনিক ফিশারিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে।

  2. পোলট্রি ফার্ম: খামারে ফাওমি জাতের প্রায় ২ হাজার মুরগি রয়েছে, যা থেকে নিয়মিত ডিম ও মাংস উৎপাদিত হচ্ছে।

  3. ষাঁড় মোটাতাজাকরণ: সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে ষাঁড় গরু পালন করা হচ্ছে। গরুর খাদ্যের জন্য খামারের নিজস্ব জমিতে উন্নত জাতের ঘাস চাষ করা হয়।

  4. ভার্মি কম্পোস্ট (জৈব সার) উৎপাদন: খামারের গবাদিপশুর বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে পরিবেশবান্ধব ভার্মি কম্পোস্ট। বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ টন ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের সক্ষমতায় রূপ দেওয়া হচ্ছে, যা বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাতের অপেক্ষায় রয়েছে।

নিরাপদ চাকরি ছেড়ে সব মূলধন খামারে বিনিয়োগ করা ইখতেয়ার উদ্দিন আহমেদ মুন্না জানান, কৃষিকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনলে এটি একটি অত্যন্ত লাভজনক খাত হতে পারে। তার এই খামারে ইতোমধ্যেই এলাকার বেশ কয়েকজন বেকার যুবকের নিয়মিত কর্মসংস্থান হয়েছে।

ইখতেয়ারের বড় ভাই ইলিয়াস উদ্দিন চুন্নু জানান, পরিবারের পূর্ণ সমর্থনে ইখতেয়ার বিসিএস ও ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে এই উদ্যোগে এসেছেন। এখন তাকে দেখে এলাকার আরও অনেক শিক্ষিত ও বেকার তরুণ সমন্বিত খামার গড়ে তুলতে আগ্রহী হচ্ছেন।

পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরে-ই-আলম জানান, সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো একটি খাতের বর্জ্য ও উপকরণ অন্য খাতে ব্যবহারের সুযোগ থাকে। এতে উৎপাদন খরচ অনেক কমে যায় এবং পরিবেশও রক্ষিত হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন আধুনিক খামার পরিদর্শনের পরামর্শ নিয়ে তৈরি করা ইখতেয়ারের ‘এমএম এগ্রো’ খামারটি বর্তমানে গ্রামীণ অর্থনীতি জোরদার করা ও বেকারত্ব দূরীকরণে একটি সম্ভাবনাময় ও টেকসই মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

Related Articles

Back to top button