ইউরোপে সস্তা পোশাক আমদানিতে নতুন শুল্ক, চাপে চীনা ই-কমার্স

কম দামের পোশাক আমদানিতে নতুন শুল্ক ও হ্যান্ডলিং ফি আরোপের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। এর ফলে চীনভিত্তিক অনলাইন বিক্রেতাদের প্রচলিত ব্যবসায়িক মডেল যেমন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, তেমনি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিমান পরিবহনবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাভিয়ানের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে চীন থেকে কম মূল্যের ই-কমার্স পণ্যের আকাশপথে পরিবহনের পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে ইইউর নতুন শুল্কনীতি। গত ১ জুলাই থেকে কম মূল্যের আমদানিপণ্যের ওপর পার্সেলপ্রতি ৩ ইউরো শুল্ক আরোপ করেছে ইইউ, যা ২০২৮ সালের জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা। এর পাশাপাশি আগামী ১ নভেম্বর থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আরও ২ ইউরো হ্যান্ডলিং ফি আরোপের সিদ্ধান্ত রয়েছে।

নতুন এই শুল্ক ও ফি ৫ ইউরোর টপস কিংবা ১০ ইউরোর মতো অতি কম দামি পোশাক বিক্রির ক্ষেত্রে বড় আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। ৫ ইউরোর একটি পণ্যের ওপর ৩ ইউরো শুল্ক যুক্ত হলে কেবল শুল্কের কারণেই পণ্যের দাম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেপ্টেম্বরে আকাশপথে পণ্য পরিবহনের পরিমাণ ৫০ শতাংশ কমার অর্থ এই নয় যে বিক্রি সমপরিমাণ কমে গেছে। শুল্ক এড়াতে অনেক প্রতিষ্ঠান পার্সেল ধরে চীন থেকে পাঠানোর পরিবর্তে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে গুদাম স্থাপন করে পাইকারিভাবে পণ্য পাঠানোর কৌশল বেছে নিচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প নতুন এক সম্ভাবনার মুখে পড়তে পারে। বাংলাদেশ সাধারণত ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বড় চালানে পোশাক রপ্তানি করে থাকে, যা চীনা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের ছোট পার্সেল মডেলের চেয়ে আলাদা। ফলে নতুন শুল্কনীতির প্রত্যক্ষ প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের ওপর না পড়লেও, ইউরোপীয় বাজারে প্রতিযোগিতার ধরনে বড় পরিবর্তন আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের ক্রেতারা যদি কেবল সর্বনিম্ন দামের পরিবর্তে পণ্যের গুণগত মান, নির্ভরযোগ্যতা, এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কমপ্লায়েন্স বা বিধিবিধান অনুসরণকে বেশি গুরুত্ব দেন, তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের উৎপাদন দক্ষতা, গুণগত মান এবং সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা আরও বাড়াতে হবে।

Related Articles

Back to top button