রাষ্ট্র সংস্কারে অংশীদারিত্বের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জেএসডির


শুধু শাসক ও সরকারের পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্রের ক্ষমতার উৎস, কাঠামো ও চরিত্রের মৌলিক পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। দলটির নেতারা বলেছেন, পুরোনো ক্ষমতা-কাঠামোর বিলোপ ঘটিয়ে অংশীদারিত্বের গণতন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্র রূপান্তর করতে হবে এবং জনগণকে কেবল ভোটার হিসেবে না রেখে রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যকর অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জেএসডির ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘পুরোনো ক্ষমতা-কাঠামো বদলাও—অংশীদারিত্বের গণতন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্র রূপান্তর করো’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রবের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় দেশের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদেরা বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদানকালে সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করা জেএসডি বর্তমানে রাষ্ট্র সংস্কারের কর্মসূচিকে সামনে এনেছে। এটি আদর্শিক জায়গা থেকে কিছুটা বিচ্যুতি হলেও এই বাস্তবতায় জনগণকে ক্ষমতায়িত করার লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সাবেক সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে পাওয়ার সুযোগ সত্ত্বেও সরকার ও নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংবিধানের গভীর সংস্কার এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন না। ক্ষমতার পৃথকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ না হলে রাষ্ট্র আবার পূর্বের অগণতান্ত্রিক অবস্থায় ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।
দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুজতাফিজ শফি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র সংস্কার এখন আর একক কোনো দলের দাবি নয়, এটি সর্বস্তরের গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। অতীতে বহু আন্দোলনের স্বপ্ন ধরে রাখা সম্ভব না হলেও পরিবর্তনের লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. হেলালুজ্জামান আহমদ সংসদের উচ্চকক্ষে সামাজিক শক্তির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ভারসাম্য আনার আহ্বান জানান।
জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বারবার শাসক পরিবর্তন হলেও ক্ষমতার কেন্দ্রীভূত কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন কখনোই হয়নি। নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে শ্রমজীবী, কর্মজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নেই। ফলে দলীয় গণতন্ত্রের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে কার্যকর অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে জেএসডির স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া, মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট কে এম জাবির, কামাল উদ্দিন পাটোয়ারীসহ যুব ও নারী জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে মতামত ব্যক্ত করেন।




