দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের কল্যাণে বার্ডোর কাজ অসাধারণ: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই একটি দেশ এগিয়ে যায় উল্লেখ করে সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীসহ সব ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। তবে বেসরকারি পর্যায়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে ‘ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহেবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (বার্ডো) যে ভূমিকা রাখছে, তা সত্যিই অসাধারণ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুরে বার্ডোর কার্যালয়ে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বার্ডোর ছয়তলা ভবন ও এর বহুমুখী কার্যক্রম ঘুরে দেখে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত দেশপ্রেমিক মো. সাইদুল হকের গড়া এই প্রতিষ্ঠানে আসতে পারা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। সাইদুল হক রাজধানীসহ দেশের ১৭টি জেলায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের উন্নয়নে কাজ করছেন। তাঁর মতো একজন মেধাবী ও দক্ষ মানুষকে না দেখলে বোঝা সম্ভব নয় যে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও কতটা সক্ষম হতে পারেন। সাইদুল হক শুধু বার্ডোর প্রতিষ্ঠাতা নন, তিনি পুরো জাতির অহংকার ও প্রেরণার উৎস। এ সময় বার্ডোর পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সরকার সব সময় এই মহৎ উদ্যোগের পাশে থাকবে।

কর্মশালায় বার্ডোর নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হক জানান, ১৯৯১ সালের ১৭ জুলাই প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিগত ৩৬ বছর ধরে তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও অবহেলিত মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন। বৈষম্য দূর করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে কাজ করে যাওয়া বার্ডো ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সহায়তায় প্রায় ৫০টি প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ মানুষ উপকৃত হয়েছেন এবং বর্তমানে দেশের ১৭টি জেলার ৩৮টি উপজেলায় বার্ডোর কার্যক্রম বিস্তৃত রয়েছে।

বার্ডোর সভাপতি অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এরশাদ আলী ও ফিরোজা খাতুন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রোগ্রাম) মোস্তফা মোস্তাকুর রহিম খান, জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মো. কামরুজ্জামান, সাইটসেভার্স বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক অমৃতা রেজিনা রোজারিওসহ বিভিন্ন সমাজসেবক, লেখক ও প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের হাতে সাদাছড়ি তুলে দেন। আলোচনা পর্ব থেকে জাতীয় সংসদে অন্তত একজন নারী ও একজন পুরুষ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।

Related Articles

Back to top button