রোহিঙ্গা সংকটের এক দশক: রাজনৈতিক পালাবদল হলেও কাটেনি প্রত্যাবাসন অনশ্চিয়তা

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। সেই ঘটনার নয় বছর পূর্ণ হয়ে ১০ বছরে পদার্পণ করলেও আজও শুরু হয়নি তাদের নিজ ভূমি রাখাইনে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন।

দীর্ঘ এই সময়ে বাংলাদেশে একাধিক সরকার ও শাসনকাল অতিক্রম করলেও সংকট সমাধানে কোনো কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক সহায়তার অভাব, মিয়ানমার সরকারের টালবাহানা এবং কূটনৈতিক জটিলতার কারণে ১৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের বিশাল বোঝা বাংলাদেশকে একাই বহন করে যেতে হচ্ছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মিয়ানমারের ক্রমাগত তথ্য ও সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করার নীতি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকা থেকে মিয়ানমার ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করার দাবি করে এবং ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য মেলাতে পারেনি বলে জানায়।

এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় অস্বীকার করে তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করার অপচেষ্টা আজও অব্যাহত রেখেছে দেশটি।

অন্যদিকে মিয়ানমারে অং সান সু চির সরকার থেকে শুরু করে পরবর্তীতে সেনাশাসক পর্যন্ত সব আমলেই প্রত্যাবাসন নিয়ে নানা দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও চুক্তির নাটক হলেও বাস্তবে রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা হয়নি।

এরপর বৈশ্বিক কোভিড মহামারি, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সেনা অভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর চলমান সংঘাতের কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বারবার থমকে গেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদান কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। এই বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট যত দীর্ঘায়িত হবে, তার নেতিবাচক প্রভাব ও নিরাপত্তা ঝুঁকি শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বঙ্গোপসাগর, আসিয়ান এবং সমগ্র ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও তা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তাই সংকট নিরসনে কেবল খণ্ডিত উদ্যোগ না নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমেই টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার দাবি উঠে এসেছে।

Related Articles

Back to top button