রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা: পুলিশের দাবি ও ময়নাতদন্তের তথ্যে চরম অমিল, বাড়ছে রহস্য


রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় পুলিশের দেওয়া বক্তব্য এবং বাস্তব তথ্যের মধ্যে একাধিক বড় ধরনের গরমিল দেখা দিয়েছে।
ফরেনসিক রিপোর্ট, আসামিদের স্বজন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে এই চার খুনের ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্ন ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছিল যে নিহতদের দাঁতের চোয়াল ভেঙে দেওয়া হয়েছিল এবং রাসায়নিক দিয়ে মুখ ঝলসে দেওয়া হয়েছিল। তবে ময়নাতদন্তকারী ফরেনসিক চিকিৎসক স্পষ্ট জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তে চোয়াল ভাঙার বা কেমিক্যাল বার্নের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘসময় মরদেহ পড়ে থাকায় পচনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চেহারায় এমন বীভৎসতা এসেছে।
এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের চারটি মোবাইল ফোনের মধ্যে দুটি ফোন উদ্ধার ও ডিটারজেন্টে ভেজানোর কথা পুলিশ বললেও বাকি দুটি ফোন কোথায় আছে, তা নিয়ে কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
আসামি গ্রেপ্তারের পর তাদের পরনের পোশাক এবং ঘটনাস্থল থেকে বের হওয়ার সময় নিয়েও বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আসামি সিদ্ধার্থ দাসের বাবার দাবি, পুলিশে দেওয়ার সময় তাঁর ছেলের গায়ে ঘিয়া রঙের গেঞ্জি ছিল। অথচ ব্রিফিংয়ের সময় আসামির গায়ে ডিবির এক কর্মকর্তার মতো হুবহু একই মডেলের আড়ংয়ের শার্ট দেখা যায়।
অন্যদিকে পুলিশ জুমার নামাজের সময় আসামিদের স্বর্ণালংকার নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার কথা বললেও আসামিদের পরিবারের দাবি, শুক্রবার তারা নিজ নিজ বাসাতেই অবস্থান করছিল।
ঘটনার পেছনে আরও কিছু রহস্যময় উপাদান উদঘাটিত হয়েছে। ঘটনার দিন গণপতি চক্রবর্তীর বাসার বিদ্যুতের মূল লাইনটি চতুরতার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিল।
ঘটনাস্থলে যাওয়া ইলেকট্রিশিয়ান জানান, এটি স্বাভাবিক লুজ কানেকশন বা স্পার্ক ছিল না, বরং হাত দিয়ে নিউট্রাল লাইন খুলে ডিসকানেক্ট করা হয়েছিল।
এর পাশাপাশি, আসামিরা যে ভবনের ছাদ ব্যবহার করে গণপতির বাসায় ঢুকেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেই ভবনের বাসিন্দারা ঘটনার দিন রাতে বা ভোরে কোনো ধরনের শোরগোল বা সন্দেহজনক আনাগোনা টের পাননি।
উল্লেখ্য, রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগামী এবং ছেলে আয়ুসের মরদেহ বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ মামলায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস নামের দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।




