‘জুলাই গণহত্যায় জড়িত পুলিশ অফিসাররা জানে কীভাবে পালিয়ে থেকে বাঁচতে হয়’


জুলাই আন্দোলনে গণহত্যায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তারা জানে কীভাবে পালিয়ে থেকে বাঁচতে হয়, আর এ কারণেই তারা তথ্য-প্রযুক্তির জালে আটকা পড়ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে আরপিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসপূর্তি উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অর্জন তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মামলাভুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার না হওয়া প্রসঙ্গে আরপিএমপি কমিশনার বলেন, “পুলিশ অফিসার যারা আসামি তারা গ্রেপ্তার হচ্ছে না—শহীদ পরিবারের এই অভিযোগ সত্য। কারণ তারা নিজেরা জানে কীভাবে পালিয়ে বাঁচতে হয় এবং কীভাবে আসামি ধরে। যে কারণে তথ্য-প্রযুক্তির জালে তারা ধরা দিচ্ছে না।” এ সময় আসামি পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি আশ্বাস দেন, তথ্য পেলে আসামিদের যেখানেই পাওয়া যাক আইনের আওতায় আনা হবে।
নিজের ক্যারিয়ারে বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, “চব্বিশের আন্দোলনে ৫ আগস্টের পটপরিবর্তন না হলে আমি আজ পুলিশ কমিশনার হতে পারতাম না। গত ১৭ বছর ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বছরসহ মোট ১৮ বছর আমাকে এডিশনাল এসপি করে রাখা হয়েছিল, অথচ আমার ব্যাচমেটরা আগে কমিশনার হয়েছেন। জীবনের এবং যৌবনের এই ১৮ বছরের ক্ষতি আর কখনো ফেরত পাব না।”
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বিগত তিন মাসের সাফল্য তুলে ধরে জানান, আরপিএমপির সাঁড়াশি অভিযানে ১ হাজার ৬২৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ওয়ারেন্টভুক্ত ৩১৬ জন, মাদককারবারি ২৮২ জন, চোর ৫৩ জন, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার ৩২ জন, হত্যা মামলার ৫ জন এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের ১২ জন সদস্য রয়েছেন।
অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ১৬ মণ চোরাই তামার তার, ৫টি অটোরিকশা এবং ৮টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং একটি নিরাপদ নগরী গড়ে তুলতে অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান ও জনবান্ধব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান আরপিএমপি কমিশনার।




