বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, “বাংলাদেশে বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর একটা রাজনীতির দিকে যাচ্ছে। যদি সন্ত্রাসীদের বিচার হয়, তাহলে বুঝব দেশে বিচার ও আইনের শাসন আছে; না হলে নেই।”
বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে সদর থানা বরাবর অভিযোগ দায়ের শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, দেশের সংস্কার ও জুলাইয়ের বিচারের দাবিতে তারা হবিগঞ্জে কর্মসূচি পালন করতে গিয়েছিলেন। কর্মসূচি শেষে বের হওয়ার সময় বিএনপির জি কে গউছের অনুসারীরা চেইন, হকিস্টিক ও রামদা নিয়ে তাদের ওপর হত্যাচেষ্টা চালায়। হামলায় সারজিস আলম নির্মমভাবে আহত হন, এনসিপির জেলা সদস্যসচিবের হাত ভেঙে দেওয়া হয় এবং দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর চোখ তুলে নেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এছাড়া নগদ টাকা, ক্যামেরা, ল্যাপটপসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট এবং ৫০ লাখ টাকা মূল্যের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করতে চাইলেও ছাত্রদল-যুবদল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। এমনকি মৌলভীবাজার থেকে রওনা হলে পুলিশের ব্যারিকেড ও রাস্তায় বালুর ট্রাক দিয়ে তাদের পথরোধ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
গতকাল আহতদের পক্ষে আজ হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ভিডিও ফুটেজ দেখে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহমেদ রংগনকে প্রধান আসামি এবং বৃন্দাবন কলেজ ছাত্রদলের সেক্রেটারি আরিফুজ্জামান রিয়াদকে দ্বিতীয় আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “পুরো দেশের মানুষ ভিডিওতে এই হামলা দেখেছে। এটি একটি টেস্ট কেস—তারেক রহমানের বাংলাদেশে বিচার প্রতিষ্ঠার সদিচ্ছা আছে কি না, আমরা তা দেখব।”
১৪৪ ধারা জারি করা সত্ত্বেও ছাত্রদল-যুবদলের মিছিল করা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, প্রশাসনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। এনসিপিকে আটকে রেখে অন্যদিকে সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র মহড়া দিতে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে রাতের মধ্যেই অভিযোগের জিআর নম্বর দেওয়া হবে। আহত নেতাকর্মীদের বিচার ও হামলাকারীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান এনসিপি নেতারা।
অভিযোগ দায়েরের সময় এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এবং জাতীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু উপস্থিত ছিলেন।




