বরিশাল বিভাগজুড়ে ডেঙ্গুর বিস্তার: বদলাচ্ছে সংক্রমণের কেন্দ্রস্থল

বরিশাল বিভাগে চলতি বছরে আবারও ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তবে আগের বছর বরগুনা ডেঙ্গুর মূল কেন্দ্র (হটস্পট) থাকলেও, এবার পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। দূর-দূরান্তের জেলা ও গ্রামীণ এলাকাগুলো থেকে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

সংক্রমণের চিত্র ও পরিসংখ্যান:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী (১ জানুয়ারি থেকে ২৭ জুলাই ২০২৬):

  • মোট আক্রান্ত: ৩,৬৩৮ জন (এর মধ্যে ৩,৩৯৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন)।

  • মোট মৃত্যু: ৫ জন (যার মধ্যে ৪ জনেরই মৃত্যু হয়েছে শের-ই-বাংলা মেডিকেলে)।

  • সর্বাধিক আক্রান্ত জেলা: পিরোজপুর (১,০১৭ জন) ও ঝালকাঠি (৯৪৪ জন)।

  • অন্যান্য জেলা: বরিশাল (৪৬৪ জন), বরগুনা (৪১৪ জন), পটুয়াখালী (৪১৪ জন) এবং ভোলা (১৩২ জন)।

গ্রাম ও পৌরসভা অঞ্চলগুলোতে নিয়মিত মশক নিধন ওষুধ ছিটানো বা পরিচ্ছন্নতা অভিযান না চালানোর অভিযোগ তুলেছেন রোগী ও স্বজনরা। অবহেলার কারণে তরুণেরা যেমন এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারছেন না, তেমনি বারবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন স্থানীয়রা।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আব্দুল মোনায়েম সাদ জানান, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় মেডিসিন ইউনিট ৪টি থেকে বাড়িয়ে ৬টি করা হয়েছে এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু কর্নার খোলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. লোকমান হাকিম জানান, এবার শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রভাব বেশি। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা ছাড়া অন্যান্য গ্রামীণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রমের অভাব রয়েছে। ফলে নাগরিক সচেতনতা ও নিজেদের চারপাশ পরিষ্কার রাখা ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়।

Related Articles

Back to top button