দেশে ফিরতে চায় ৩ হাজার বাংলাদেশি

নিউজ ডেস্ক :যুদ্ধকবলিত লেবানন অবস্থানরত প্রায় ৩ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি দেশে ফিরতে চাইলেও আপাতত সেটা সম্ভব হচ্ছে না। দেশটি থেকে আকাশপথে চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় এ অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। লেবাননে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের বড় অংশই নারী ও শিশু।

স্থানীয় বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, ফিরে আসতে চাওয়া প্রবাসীদের বেশিরভাগই হিজবুল্লাহ অধ্যুষিত লেবাননের দাহি শহরসহ দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা বাংলাদেশি। আপাতত তাদের আশ্রয় হয়েছে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে।

বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় বৈরুতে ওই অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরগুলো তৈরি করেছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির সচ্ছল ব্যবসায়ীরা। আশ্রিত ওই প্রবাসীদের প্রতিটি দিন কাটছে উদ্বোগ-উৎকণ্ঠায়।

তবে সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন শিশুসহ আশ্রয় নেওয়া পরিবারের সদস্যরা। দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা রেশমা তার দুই বছরের ছেলে আব্রাহামকে নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। তিনি বলেন, আমার অসহায় লাগছে। ছেলেটাকে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অপেক্ষা করছি। কবে দেশে যেতে পারবো সেই আশায় আছি।

সেখানে আশ্রয় নেয়া আরেক নারী হাসি আক্তার জানালেন প্রায় শূন্য হাতে পালিয়ে আসতে হয়েছে তাদের। ফলে মানুষের সহযোগিতার ওপরই এখন চলতে হচ্ছে। হাসি বলেন, আমাদের কাগজপত্র (বৈধতার কাগজ) থাকা সত্ত্বেও আমরা রাস্তায় বের হয়ে এসেছি। মালিক কোনো খোঁজ-খবর নেয় নাই। মালিক কোন টাকা পয়সাও দেয় নাই। আমরা টাকা ছাড়াই যার যার জীবন নিয়ে রাস্তায় বের হয়ে এসেছি।

পরিত্যক্ত বা ব্যবহার না হওয়া বাড়ি ভাড়া করে আপাতত অস্থায়ী আশ্রয় শিবির করা হলেও প্রতি দিন কয়েক হাজার মানুষের জন্য খাবার সংস্থান করা কঠিন হয়ে পড়েছে স্বেচ্ছাসেবীদের জন্য।

বৈরুতের এক আশ্রয় কেন্দ্রের পরিচালনাকারীদের একজন সুব্রত সাহা (ওরফে বাবু সাহা) জানালেন, দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা বাংলাদেশিদের জন্য বৈরুতে যারা মোটামুটি সচ্ছল কমিউনিটির, সেই সব মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলে এই আশ্রয়কেন্দ্র চালানো হচ্ছে।

আরেকটি আশ্রয়কেন্দ্রের অন্যতম পরিচালক, প্রবাসী ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া বলেন, প্রতিদিনই চাঁদা তুলে আশ্রিত বাংলাদেশি ভাই-বোনদের জন্য খাবারের সংস্থান করতে হচ্ছে।

এই প্রতিবেদকের সঙ্গেও যখন কথা হচ্ছিল, তখনও চাঁদা তোলার কাজে ব্যস্ত ছিলেন বলে জানান সোহেল

তবে দিন যতই গড়াচ্ছে, আশ্রিত মানুষগুলোর জন্য খাবারের সংস্থান করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করেন স্বেচ্ছাসেবীরা। এ জন্য স্থানীয় কমিউনিটির বাইরে সরকারকে দ্রুত সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তারা।

স্বেচ্ছাসেবক আল আমিন ইজ্জত বলেন, আমরা বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে অনুরোধ করবো যেন তারা সাহায্য করেন। আমরা আর পেরে উঠছি না। হিমশিম খাচ্ছি।

এদিকে আটকে পড়া প্রবাসীদের সহযোগিতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেন, থাকা ও খাওয়ার সংস্থানের জন্য এরই মধ্যে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কিছু অর্থের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ভয় ও আতঙ্কে যারা দেশে ফিরতে মরিয়া, তাদের জন্য সময়টা আরো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিরে যাওয়ার অপেক্ষা যত বাড়ছে, ফিরতে না পারার শঙ্কা ততই ঘনীভূত হচ্ছে। বিশেষ করে যখন লেবাননের আকাশপথ অনিরাপদ হয়ে ওঠায় বৈরুত থেকে আকাশপথে চলাচল সীমিত হয়ে এসেছে।

দেশে ফেরত আসতে অপেক্ষমাণ প্রবাসীদের তালিকা দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে বলে মনে করছেন স্বেচ্ছাসেবী সোহেল। তার মতে, কীভাবে ফেরা যাবে সেটা কেউ বলতে পারছে না। অন্যদিকে দেশে তাদের পরিবার-পরিজনের মধ্যেও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button