উত্তরা-১১ সেক্টরে গেস্ট হাউজের আড়ালে রমরমা মাদক ও দেহব্যবসা, নেতৃত্বে ‘রাজিব’—স্থানীয়দের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর অভিজাত এলাকা উত্তরা-১১ নম্বর সেক্টরের ১৯ নম্বর রোডের ৫৩ নাম্বার বাড়ির একটি গেস্ট হাউজকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও দেহব্যবসার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রকাশ্যে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড চললেও রহস্যজনক কারণে এখনো দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, ‘দুর্দান্ত পর্যটন গেস্ট হাউজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে সংঘবদ্ধভাবে নারী সরবরাহ, মাদক লেনদেন এবং ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ ভাড়া দিয়ে অবৈধ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। এতে এলাকার সামাজিক পরিবেশ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ১১ নম্বর সেক্টরের ১৯ নম্বর রোডের ৫৩ নাম্বার বাড়ি ভাড়া নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একাধিক কক্ষ চুক্তিভিত্তিকভাবে ব্যবহার করা হয়, যেখানে টাকা দিলেই নারী এবং রুম পাওয়া যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। দালালচক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গা থেকে নারী এনে অতিথিদের কাছে সরবরাহ করা হয় বলেও জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘রাজিব’ নামের এক ব্যক্তি এই পুরো সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে। তার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে উঠেছে, যারা গেস্ট হাউজের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গোপনে গ্রাহক সংগ্রহের প্রক্রিয়াও চালু রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু দেহব্যবসাই নয়, একই সঙ্গে সেখানে মাদক সরবরাহের ব্যবস্থাও রয়েছে। রাতে বিভিন্ন সময় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা বাড়ে এবং বাইরের অনেক লোকজন ওই গেস্ট হাউজে নিয়মিত যাতায়াত করে।
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কিছু নারীকে সেখানে আনা হয় এবং পরে তাদের জোরপূর্বক যৌন ব্যবসায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে ব্ল্যাকমেইল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কিছু সদস্যকে নিয়মিত অর্থ দিতে হয় বলেই তারা নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারছেন। তবে এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে অভিযুক্ত রাজিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠান বৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টাও করেন।

এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অভিজাত এলাকায় এমন অবৈধ কার্যক্রম চলতে থাকলে সমাজে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে এসব সিন্ডিকেট বন্ধ করা জরুরি।”
এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া এই চক্র বন্ধ করা সম্ভব নয়। তারা অবিলম্বে তদন্ত, অভিযান এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

Related Articles

Back to top button