কেরানীগঞ্জে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

মানিক খান: কেরানীগঞ্জে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক ব্যবসায়ীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে কেরানীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও তেঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির এক নম্বর সদস্য সেলিম মোল্লার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দাবি, দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় পাশের ইউনিয়নের একটি মারামারির ঘটনায় তাকে কৌশলে আসামি করা হয়েছে। আইনের শাসন ও দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষায় ওই যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানাগেছে, কেরানীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও তেঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির এক নম্বর সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সেলিম মোল্লা স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আলী হোসেনকে ‘চলাফেরার খরচ’ বাবদ মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। পরবর্তী সময়ে সেলিম মোল্লা ওই ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আসেন। তবে বিষয়টি বিএনপির সিনিয়র নেতাকর্মী ও থানায় মৌখিকভাবে জানানো হলে চাপে পড়ে সেই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন সেলিম মোল্লা। এই ঘটনার জের ধরেই গত ৩১ মার্চ শুভাঢ্যা ইউনিয়নে যুবদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হওয়া একটি মারামারির ঘটনায় আলী হোসেনকে ৬৪ নম্বর আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলমের স্বাক্ষরিত মামলার এজাহারে (স্মারক নং-১৯২৩ (৩)/১) দেখা যায়, ৭২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭০-৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে পেনাল কোডের ১৪৩, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭ সহ গুরুতর জখম ও চুরির ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আলী হোসেন বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অত্যাচারে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারিনি। আমার বাড়ির রাস্তা পর্যন্ত দখল করে মাটি বিক্রি করেছে আওয়ামী লীগ নেতারা। এখন নিজের দলের পরিচয় দিয়ে যারা এসব করছে, তাদের সাথে ফ্যাসিবাদের পার্থক্য কোথায়? আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আমার এই বয়সে ইয়াং ছেলেদের সাথে মারামারি করতে যাওয়ার বিষয়টি হাস্যকর। আমি ন্যায়বিচার চাই।”
স্থানীয় বিএনপি নেতা জনি (ছদ্মনাম) জানান, আলী হোসেনের পরিবার বিগত সরকারের সময় চরমভাবে অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ব্যক্তিগত জায়গার ওপর জোর করে ব্রিজ ও রাস্তা নির্মাণ করে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি করা হয়েছিল। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মোল্লা বংশের কিছু উশৃঙ্খল সদস্যের কারণে পুরো এলাকার বদনাম হচ্ছে। এমনকি অভিযুক্ত সেলিম মোল্লা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ‘অন্য সেলিম মোল্লা’র ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না। অন্যদিকে, তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর মো. লিয়াকত খাঁন স্বীকার করেন যে, এ ধরনের মামলায় অনেক সময় স্থানীয় রাজনৈতিক চাপ থাকে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, ভিডিও ফুটেজ ও অবস্থান নিশ্চিত না হয়ে কাউকেই দোষী সাব্যস্ত করা হবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর তৃণমূল পর্যায়ে চাঁদাবাজি ও মিথ্যা মামলার এই সংস্কৃতি বন্ধ না হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ অসম্ভব হয়ে পড়বে। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তাদের কঠোর আইনের আওতায় আনাই এখন প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কেরানীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও তেঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির এক নম্বর সদস্য সেলিম মোল্লার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরবর্তীতে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলে তিনি তা দেখেছেন (সীন করেছেন), কিন্তু কোনো উত্তর দেননি।



