বেরোবিতে শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষে আহত অন্তত ১০


রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
বিগত সরকারের আমলে যুদ্ধাপরাধের বিচারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেতাদের ছবি সংবলিত একটি প্রদর্শনী ফেস্টুন সরানোকে কেন্দ্র করে সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ঘটনার সূত্রপাত হয়।
বেরোবি শাখা ছাত্রশিবির স্বাধীনতা স্মারক মাঠে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে। সেখানে অন্যান্য ব্যানারের সঙ্গে জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মীর কাশেম আলী, কাদের মোল্লা এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ছবি সংবলিত ফেস্টুন টাঙানো হয়।
রাত সাড়ে ৭টার দিকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ফেস্টুনটি সরানোর দাবি জানালে দুই পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি থেকে তা চেয়ার ছোড়াছুড়ি, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে বেরোবি শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, বর্তমান সেক্রেটারি ইমরান খান সৌরভ, শিবিরের ব্রাকসু প্যানেলের জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাইতুল মাল সম্পাদক বাইজিদ শিকদার, কর্মী মুরসালিন এবং ছাত্রদল নেতা আশিকসহ দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন সদস্য রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে চিকিৎসা ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। ক্যাম্পাসে কোনো অশুভ বা নিষিদ্ধ সংগঠন অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রক্টর ফেরদৌস রহমান জানিয়েছেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করা হচ্ছে।




