প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিলে মিলবে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় প্রবেশের সুযোগ


পরিবেশ সুরক্ষায় শিশু-কিশোরদের সম্পৃক্ত করতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এখন থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনামূল্যে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে। সংগৃহীত এসব প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের লক্ষ্যে ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের একটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা ও সংলগ্ন পাহাড়ি ছড়ায় পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কর্মসূচির উদ্বোধন করে এ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা করা হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির শুরুতে পরিবেশ সচেতনতামূলক একটি র্যালি বের করা হয়। এতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং ইপসা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য চিড়িয়াখানার প্রবেশ টিকিট ৭০ টাকা হলেও শিশুদের পরিবেশ সচেতন করতে এবং মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে সরিয়ে প্রকৃতি ও প্রাণিজগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে যেমন শিশুরা প্রাণীদের সঙ্গে পরিচিত হবে, তেমনি প্লাস্টিক বর্জ্যও পুনর্ব্যবহারের আওতায় আসবে। এছাড়া খুব শিগগিরই চিড়িয়াখানায় জেব্রা ও কুমির আনার পরিকল্পনার কথাও নিশ্চিত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ড. শাহাদাত হোসেন বলেন, একক কোনো সংস্থার পক্ষে পুরো নগর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। ফলে জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও নগরবাসীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি ফয়েস লেক সংলগ্ন চিড়িয়াখানা, পাহাড়ি ছড়া ও প্রাকৃতিক জলাধার দূষণমুক্ত রাখা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করতে জাপান থেকে ২০টি কমপ্যাক্টর ডাম্প ট্রাক সিটি করপোরেশনের বহরে যুক্ত করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে পূর্বের বিভিন্ন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সাফল্য তুলে ধরে জানান, কাযীবাড়ি পুকুর, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন সরকারি ভবন, মসজিদ ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় ধারাবাহিকভাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান (সি), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকতসহ প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে অতিথিরা চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।




