মিরপুরে কিশোর-কিশোরীদের ডিজিটাল সচেতনতায় মাসব্যাপী ক্যাম্পেইন শেষ


অনলাইনে সাইবার সহিংসতা, ব্ল্যাকমেইলিং ও অন্যান্য ঝুঁকি থেকে কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষা এবং দায়িত্বশীলভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে রাজধানীর মিরপুরের চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাসব্যাপী ডিজিটাল লিটারেসি ক্যাম্পেইন শেষ হয়েছে।
‘সমতার আলো’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশে টেরে ডেস হোমস ইতালির আর্থিক সহায়তায় এবং আরবানের আয়োজনে এ ক্যাম্পেইন গত ২৯ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) শেষ হয়।
আয়োজকদের তথ্যমতে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর মিরপুর শাহীন স্কুলে প্রথম ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ৬ অক্টোবর বাউনিয়াবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, ১৪ অক্টোবর বাউনিয়াবাদ মডেল হাই স্কুল এবং সর্বশেষ ২৮ অক্টোবর মিরপুর উদয়ন স্কুলে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে বাউনিয়াবাদ মডেল হাই স্কুলে ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে একটি সচেতনতামূলক র্যালিও অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথাগত বক্তৃতার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এসব কর্মসূচি সাজানো হয়। এতে ইন্টারনেটের ইতিবাচক ব্যবহার, ডিজিটাল জগতের সুযোগ ও ঝুঁকি, অনলাইন নিরাপত্তা এবং দায়িত্বশীল আচরণ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ক্যাম্পেইনে ইন্টারেক্টিভ সচেতনতা সেশনের পাশাপাশি ডিজিটাল যুগের সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে তাৎক্ষণিক বক্তৃতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া শিক্ষামূলক নাটিকার মাধ্যমে অনলাইনে সম্ভাব্য ঝুঁকি, সাইবার সহিংসতা ও ব্ল্যাকমেইলিং থেকে আত্মরক্ষার উপায় তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি র্যালির মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, ক্যাম্পেইনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ডিজিটাল লিটারেসি বিষয়ক সেশন পরিচালনা করতে পারবেন, যা কর্মসূচিতে অর্জিত জ্ঞান ও সচেতনতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
ধারাবাহিক এসব কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক, স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ ছাড়া বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টেরে ডেস হোমস ইতালির কান্ট্রি ডিরেক্টর রাজিব দেবনাথ, প্রকল্প ব্যবস্থাপক বেনজির শাহ্ শোভন এবং আরবানের প্রকল্প সমন্বয়কারী মংচিংসা মারমা। দুই সংস্থার অন্যান্য কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরাও বিভিন্ন পর্বে কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সমাপনী বক্তব্যে অতিথিরা বলেন, ডিজিটাল লিটারেসি কেবল প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বুদ্ধিমত্তা, নৈতিকতা ও নিরাপত্তার সঙ্গে প্রযুক্তি ব্যবহার করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
উল্লেখ্য, ‘সমতার আলো’ প্রকল্পের আওতায় আরবান দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক শিশু, কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে আসছে। এ ধরনের উদ্যোগ সচেতন ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।




