দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে খুলল শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স, চলছে গণনা

প্রচলিত প্রথা ভেঙে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে খোলা হয়েছে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স। বাক্সগুলো খোলার পর পরই শুরু হয়েছে ভেতরে জমা হওয়া দেশি-বিদেশি অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার গণনার কার্যক্রম।
আজ শনিবার (১১ জুলাই) বেলা সোয়া ১১টার দিকে দরগাহ মসজিদের বারান্দায় মাজারের দানবাক্স (ডেক) থেকে টাকা বের করে গণনা শুরু হয়। মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা নির্ধারণে নবগঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
গণনার সাথে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গণনা শেষ হওয়ার পর মোট কত টাকা পাওয়া গেছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হবে। এরপর আগের নিয়মেই পুরো অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হবে।
মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য গঠিত বিশেষ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী (প্রশাসক, সিলেট সিটি কর্পোরেশন), রেজাউল হাসান কয়েস লোদী (প্রশাসক, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ), মশিউর রহমান (সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার), আবুল কাহের শামীম (প্রশাসক, জেলা পরিষদ), সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার। মাজারের মোতোয়াল্লি পরিবারের দুই সদস্য। মাজার মাদরাসা ও মসজিদের দুই প্রতিনিধি। এই কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক।
এর আগে গত ২২ জুন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের নিজস্ব ৪টি এবং জেলা প্রশাসনের স্থাপন করা আরও ৪টিসহ মোট ৮টি দানবাক্স খোলা হয়েছিল।
সেদিন দানবাক্সগুলো থেকে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, ৭ আনা স্বর্ণালঙ্কার এবং দুটি সৌদি রিয়াল পাওয়া যায়। এছাড়া জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম ৫ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। সব মিলিয়ে প্রথম দফায় মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে পুরো অর্থ হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর নামে সোনালী ব্যাংকের কর্পোরেট শাখায় জমা দেওয়া হয়।



