গাইবান্ধা সদরে টিআর-কাবিখা প্রকল্পে ব্যাপক লুটপাট, ছাড় পায়নি মসজিদ-মন্দির-কবরস্থানও


গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে ২০২৩-২৪, ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। পিআইও কার্যালয়ের কর্মকর্তা, প্রকল্প সভাপতি ও স্থানীয় দালাল সিন্ডিকেটের যোগসাজশে মসজিদ, মন্দির ও কবরস্থানের সংস্কার কাজের নামে বরাদ্দের টাকা লুটপাট করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে উঠে আসা অনিয়মের মূল চিত্রগুলো: কিশামত ফলিয়া ফারাজি পাড়া জামে মসজিদ (২০২৫-২৬): টিআর প্রকল্পের ২ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে মসজিদ কমিটি পেয়েছে মাত্র ৪০ হাজার টাকা। প্রকল্পের সভাপতি তোহা খন্দকার জানান, তিনি চেকে স্বাক্ষর করা ছাড়া কিছু জানেন না। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্যের স্বামী সারোয়ার স্বীকার করেন যে পিআইও অফিস থেকে ‘প্রকল্প কিনে’ ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
আরিফ খাঁ বাসুদেবপুর উত্তরপাড়া কবরস্থান (২০২৪-২৫): ২ লাখ টাকা বরাদ্দের পুরো টাকাই আত্মসাৎ করা হয়েছে; কবরস্থান রক্ষণাবেক্ষণকারীরা বরাদ্দের বিষয়ে কিছুই জানেন না।
আউয়ালের বাড়ি হতে নজলার রহমান জামে মসজিদ রাস্তা (২০২৪-২৫): কাবিখা প্রকল্পের ৫.৩৪৩ টন গমের বরাদ্দের কোনো কাজ হয়নি। যেটিকে রাস্তা দেখানো হয়েছে, বাস্তবে তা কয়েকটি পরিবারের বাড়ির উঠান।
ছাট চকবরুল শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির (২০২৩-২৪): ৫২ হাজার টাকা বরাদ্দের মধ্যে মন্দির কমিটি পেয়েছে মাত্র ২৬ হাজার টাকা। বাকি অর্ধেক টাকা পিআইও অফিস আত্মসাৎ করেছে।
বালাআটা উত্তরপাড়া জামে মসজিদ (২০২৩-২৪): ৭২ হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা জানান, অর্ধেকের শর্তে পিআইও রিয়াজুল ইসলাম এই প্রকল্প দিয়েছিলেন।
এসব বিষয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রিয়াজুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি। তবে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




