এনসিপির সমাবেশে হামলা ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ

সাভারে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই পথযাত্রা’ কর্মসূচির সমাবেশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং ককটেল হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্পিকারের মাধ্যমে সরকারের কাছে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় এই সংসদ সদস্য।
আখতার হোসেন সংসদকে অবহিত করেন যে, গতকাল রাতে সাভারের ওই সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে তিনি নিজে এবং সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপিসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মঞ্চে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে রহস্যজনকভাবে পুরো এলাকার বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও বিদ্যুৎ সচল করার কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরপর বিদ্যুৎহীন অন্ধকারের মধ্যেই যখন মঞ্চে বক্তব্য চলছিল, তখন হঠাৎ করেই উপস্থিত শ্রোতা ও সাধারণ মানুষের মাঝখানে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।”
বিস্ফোরণের তীব্রতায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন। এই চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে সমাবেশ সংক্ষিপ্ত করে নেতৃবৃন্দ পরবর্তীতে আইনি সহায়তার জন্য স্থানীয় থানায় যান বলে তিনি জানান।
আখতার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তারা যখনই জুলাইয়ের চেতনাকে কেন্দ্র করে কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেন, তখনই একটি নির্দিষ্ট মহল বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টায় মেতে ওঠে। এর আগেও এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল। সাভারের বিস্ফোরণটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তিনি নিজে এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ চরম জীবননাশের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারতেন।”
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে এই বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করে তিনি প্রশ্ন তোলেন— বিরোধী দলের সমাবেশের সময়েই কেন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলো এবং কেন প্রকাশ্য সমাবেশে অপরাধীরা বিস্ফোরণ ঘটানোর সুযোগ পাচ্ছে? একই সঙ্গে তিনি অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিরোধী দলের নির্বিঘ্নে সভা-সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকার রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে কিনা, তা জানতে চান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের উত্থাপিত এই জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জবাব দিতে দাঁড়ান আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, সাভারের এই ঘটনাটিকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ কঠোর ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন আইনমন্ত্রী।



