শিশুর টনসিল অপসারণ করার পর যে সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে


শিশুদের ঘন ঘন টনসিলাইটিস, বড় হয়ে যাওয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট কিংবা অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা থাকলে টনসিল অপসারণ বা ‘টনসিলেক্টমি’ অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়। এই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুর ঘুম, শ্বাস-প্রশ্বাস ও জীবনযাত্রার মান উন্নত হলেও, সেরে ওঠার সময় কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা জটিলতা দেখা দিতে পারে। অভিভাবকদের এ বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি:
১. গলা ব্যথা এবং গিলতে অসুবিধা
টনসিল অপসারণের পর গলা ব্যথা সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। খাবার, পানি বা কথা বলার সময় অস্বস্তি হতে পারে এবং এই ব্যথা অনেক সময় কানেও ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহ ব্যথা থাকে এবং পঞ্চম থেকে সপ্তম দিনে তা সাময়িকভাবে বাড়তে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বয়স-উপযোগী ব্যথানাশক ব্যবহার করা উচিত।
২. রক্তপাতের ঝুঁকি
টনসিলেক্টমির একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জটিলতা হলো রক্তপাত। অস্ত্রোপচারের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বা কয়েক দিন পর ক্ষতের উপরিভাগ আলাদা হওয়ার সময় এটি হতে পারে। মুখ বা নাক থেকে তাজা রক্ত কিংবা বমিতে রক্ত দেখা গেলে দেরি না করে শিশুকে অবিলম্বে জরুরি বিভাগে নিয়ে যেতে হবে।
৩. বমি বমি ভাব এবং বমি
অ্যানেস্থেসিয়া, ব্যথানাশক ওষুধ বা রক্ত গিলে ফেলার কারণে শিশুর বমি বা বমি ভাব হতে পারে। বারবার বমি হলে শিশুর পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন) দেখা দিতে পারে। শিশু পুরোপুরি জেগে উঠলে অল্প অল্প করে ঘন ঘন তরল খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে।
৪. ডিহাইড্রেশন (পানিশূন্যতা)
গিলতে কষ্ট হওয়ার কারণে শিশুরা কম তরল গ্রহণ করে, যা থেকে পানিশূন্যতা হতে পারে। কম প্রস্রাব হওয়া, মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত ক্লান্তি এর লক্ষণ। ঠান্ডা পানীয় বা আইস ললি এক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
৫. মুখে দুর্গন্ধ এবং কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন
অস্ত্রোপচারের পর ক্ষতস্থানে সাদা বা হলদে আস্তরণ পড়ার কারণে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে, যা স্বাভাবিক নিরাময় প্রক্রিয়ার অংশ। এছাড়া সাময়িকভাবে শিশুর কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন বা নাকী সুরের ভাব আসতে পারে, যা সাধারণত সেরে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ঠিক হয়ে যায়।
৬. জ্বর এবং সংক্রমণ
অস্ত্রোপচারের পর শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বাড়া স্বাভাবিক। তবে একটানা বা উচ্চ জ্বর, ব্যথা ও ফোলাভাব বাড়তে থাকা কিংবা শিশুর অবস্থার অবনতি হলে তা চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করাতে হবে। নিজে থেকে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা যাবে না।
৭. শ্বাসকষ্ট এবং অ্যানেস্থেসিয়া-সম্পর্কিত ঝুঁকি
সাধারণত জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়ার অধীনে এই অস্ত্রোপচার করা হয়, যার ফলে সাময়িক তন্দ্রাচ্ছন্নতা বা গলার অস্বস্তি হতে পারে। তবে শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, ঠোঁট নীল বা ধূসর হয়ে গেলে কিংবা ঘুম থেকে জাগাতে অস্বাভাবিক অসুবিধা হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে।




