ইসলাম ন্যায়বিচারের শিক্ষা দেয়

  1. আদালত হতে হবে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ। এ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালতেই অপরাধীদের বিচার হতে হবে। আদালত যখন স্বাধীন হবে, আল্লাহভীরু হবে তখন দেশের জনগণ ন্যায় ও সুবিচার পাবে। প্রকাশ্য আদালতে বিচার পাওয়া নাগরিকদের অধিকার। একই সাথে বিচার হতে হবে দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। তবে দ্রুত বিচার করতে গিয়ে ন্যায় বিচারকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। সুবিচার আল্লাহর হুকুম, অর্থাৎ ফরজ ইবাদত। ন্যায়ের বিধান সর্বকালের ও সব সমাজের জন্য কাম্য। সব আসমানি কিতাবে এই নির্দেশনা রয়েছে।মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, নিশ্চয়ই আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছিলাম; তাতে ছিল পথনির্দেশ ও আলো; নবীগণ, যারা আল্লাহর অনুগত ছিল, তারা ইয়াহুদিদের তদনুসারে বিধান দিত, আরও বিধান দিত রব্বানিগণ এবং বিদ্বানগণ। কারণ, তাদের আল্লাহর কিতাবের রক্ষক করা হয়েছিল এবং তারা ছিল সেটির সাক্ষী। সুতরাং তোমরা নির্বোধ লোকদের ভয় কোরো না, আর শুধু আমাকেই ভয় করো। আমার আয়াতের বিনিময়ে সামান্য সম্পদ ক্রয় কোরো না। আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তবে তারাই কাফির। আমি তাদের জন্য তাতে বিধান দিয়েছিলাম যে প্রাণের বদলে প্রাণ, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান, দাঁতের বদলে দাঁত এবং জখমের বদলে অনুরূপ জখম। অতঃপর কেহ তা ক্ষমা করলে উহাতে তারই পাপমোচন হবে। আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তবে তারাই ‘জালিম। ইসলাম একটি শান্তিপ্রিয় ধর্ম। ইসলামের শিক্ষা অত্যন্ত উচ্চাঙ্গের। ইসলামের শিক্ষাগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো সমাজ ও দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ পৃথিবীতে এ পর্যন্ত থেকে যত নবি-রাসূল (আ.) এর আগমন ঘটেছে, তাদের প্রত্যেককে আল্লাহ তাআলা বিশেষ যেসব দায়িত্ব দিয়েছেন তার মধ্যে প্রধান দায়িত্ব ছিল বিচার সালিশে ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা। আল্লাহ তাআলার নির্দেশ অনুযায়ী সব নবি রাসূলই (আ.) দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেছেন এবং এ ক্ষেত্রে তারা সফলও হয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button