আগামী ৭২ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের ৫ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা


আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার কিছু কিছু স্থানে নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
আজ সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী ইমন কল্যাণ দাসের সই করা বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি এবং পূর্বাভাস সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে চট্টগ্রাম বিভাগে এবং ভারতের মেঘালয় প্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া আগামী পাঁচ দিন সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের ত্রিপুরা প্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ভারতের ওড়িশা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে মৌসুমি স্থল নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়েছে। আগামী তিন দিন এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে, যার ফলে চট্টগ্রামের ৫ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা এবং লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
আগামী ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু কিছু স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে এবং নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনা নদীর পানি বেড়েছে। আগামী দুই দিন পানি কমে পরবর্তী তিন দিন আবার বাড়লেও নদীটি বিপদসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী তিন দিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন পানি বাড়লেও নদী দুটি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী এক দিন এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন পানি বৃদ্ধি পেতে পারে।




