হাসিনা পালানোর পর ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের পতনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এই নজিরবিহীন ঘটনার পর ভারতসহ বিশ্বের প্রধান দেশসমূহ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে:
শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর দেশটির সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশের সঙ্গে ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত জুড়ে বিশেষ ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানায়। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না করার ও সংযম প্রদর্শনের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র এর প্রশংসা করে। পাশাপাশি একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের আহ্বান জানায় তারা।
যুক্তরাজ্য সরকার আন্দোলনকারীদের ওপর থেকে সব মামলা প্রত্যাহার এবং কারাবন্দীদের মুক্তির আহ্বান জানায়। যুক্তরাজ্যের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড লা মি বাংলাদেশে সংঘটিত সহিংসতার জাতিসংঘের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জার্মানি রক্তপাত বন্ধ করে শান্ত থাকার আহ্বান জানায়। মানবাধিকার রক্ষা করে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলে তারা।
কানাডার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি শিক্ষার্থীদের ওপর মারণাস্ত্র প্রয়োগ ও দমন-পীড়নের তীব্র নিন্দা জানান এবং দেশের সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ধৈর্য ধারণের তাগিদ দেন।
রাশিয়া আশা প্রকাশ করে যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া দ্রুতই সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে ফিরে আসবে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি সাবরে বাংলাদেশের মানুষের সহনশীলতার প্রতি আস্থা রেখে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।




