নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অনুপ্রবেশ করা মিয়ানমারের ১১ নাগরিক আটক

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের সময় পৃথক অভিযানে ১১ জন মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)।
তাদের মধ্যে ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি ৩ জনকে সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে ফেরত (পুশব্যাক) পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের গাছবুনিয়া এলাকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর উপ-অধিনায়ক মেজর মো. মেহেদী হাসান আশিকের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সীমান্ত পিলার ৪১ থেকে প্রায় চার কিলোমিটার বাংলাদেশের ভেতর থেকে ৮ জনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- মংবা তংচংগা (৩৪), মং এম (২০), কিংলা থুয়াং (২১), রুপার (১৯), থাইংসা মং (৪০), তুলি (২০), তানতান নাইং (২০) ও মংতা নাইং (২০)।
পুশব্যাক করা তিনজন হলেন- মানুসিং তংচঙ্গা (৬২), লাকি মং তংচঙ্গা (৩৮) ও মেতু মং তংচঙ্গা (১২)। তাদের বাড়ি মিয়ানমারের বলিবাজার এলাকার হুয়াংকিং গ্রামে।
জানা যায়, তাদের কারও কাছে পাসপোর্ট, ভিসা বা বাংলাদেশে প্রবেশের বৈধ কোনো ভ্রমণ নথি ছিল না এবং সবার বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু জেলার ঢেকিবুনিয়া এলাকার বিভিন্ন গ্রামে।
বিজিবি জানায়, আটক ব্যক্তিদের একজন মংবা তংচংগা নিজেকে বাংলাদেশের নাগরিক দাবি করে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও জন্মনিবন্ধনের কপি দেখান। তবে যাচাইয়ে ওই নথির সঙ্গে তার পরিচয়ের মিল পাওয়া যায়নি। এ কারণে নথিগুলো জাল বা প্রতারণার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার রাতে রেজুপাড়া বিওপির নায়েব সুবেদার মো. মিরাজ আলী ভূঁইয়া বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মামলা করেন। পুলিশ ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬–এর ১৪ ধারায় মামলা নিয়ে আটক আটজনকে আদালতে পাঠিয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজ্জামেল হক বলেন, বিজিবির অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।
একই দিন দুপুরে ৩৪ বিজিবির গর্জনবুনিয়া বিওপির সদস্যরা গর্জনবুনিয়া এলাকার লেড়ায়ার তংচইঙ্গা বাড়ি এলাকা থেকে আরও তিনজন মিয়ানমারের নারীকে আটক করেন।
পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সীমান্তের ৩৭/২ নম্বর পিলারের বাইশফাঁড়ি বিওপির দায়িত্বাধীন আমবাগান এলাকা দিয়ে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানব পাচার, মাদক পাচার, চোরাচালানসহ সব ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ ঠেকাতে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।



