সারা দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর দুই হাজার ১০টি হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের

নিজস্ব প্রতিবেদক :গত ৫ আগস্ট থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর দুই হাজার ১০টি হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয় বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে। এসবের মধ্যে এক হাজার ৭৪৪টি ঘটনা ইতোমধ্যে যাচাই-বাছাই করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট। যাচাইকালে দেখা যায়, ৯০ ভাগ অভিযোগের সঙ্গেই ধর্মীয় বিষয় জড়িত নয়। ঘটনাগুলো ঘটেছে কেবল রাজনৈতিক কারণে। এসব ঘটনায় ৩৬টি মামলা হয়েছে। সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে ৬৩৬টি। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এক হাজার ৭২টি। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের। গত ১৯ সেপ্টেম্বর হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর একের পর এক নির্যাতন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। শুধু তাই নয়, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ দেয় সংগঠনটি। অভিযোগ দেওয়া হয় জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও। নির্যাতন-নিপীড়নের প্রতিবাদে আজ শনিবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে সংখ্যালঘু ঐক্যজোটের ব্যানারে। এদিকে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলোর তদন্ত করে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই হাজার ১০টি অভিযোগের মধ্যে এক হাজার ৪৮৪টি ঘটনাই ঘটেছে ৫ আগস্ট, যেদিন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের দাবি করা হত্যাকাণ্ড এবং ধর্ষণের ঘটনা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নয়টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে তিনটিই ঘটেছে ৫ আগস্ট। এগুলো হয়েছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। অন্য ছয়টি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের মধ্যে একজন মারা গেছেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। জমিজমার বিরোধ, অর্থ লেনদেন ও পূর্বশত্রুতার জেরে তিনজন নিহত হয়েছেন। আর ৪ আগস্ট নিহত হন দুজন। এই দুজন মৃত্যুবরণ করেন তৎকালীন সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে। তাই এগুলোকে সাম্প্রদায়িক ঘটনা হিসাবে বিবেচনা করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধর্ষণের চারটি অভিযোগ করা হলেও দুটি অভিযোগ একেবারেই বানোয়াট। একটি অভিযোগের ক্ষেত্রে নগদ টাকা, মালামাল ও স্বর্ণালংকার লুটের প্রমাণ পাওয়া গেলেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। আর অন্য একটি ঘটনা ঘটেছে গত ৪ আগস্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এবার সারা দেশে ৩২ হাজার ৬৬৬ মণ্ডপে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়। এগুলোর মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে ৪৯টিতে। অপ্রীতিকর ঘটনার মধ্যে আছে পাঁচটি চুরি ও ১২টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা। অন্যান্য ৩২টি ঘটনার মধ্যে রয়েছে মণ্ডপের লাইট ভাঙচুর, ইট-পাথর নিক্ষেপ, দস্যুতা, মারামারি, চাঁদাবাজি, মদ্যপান, খড়ের গাদায় আগুন, ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার, ব্যানার ছেঁড়া, উচ্ছৃঙ্খলতা, চিরকুট পাঠানো, মণ্ডপে ইসলামি সংগীত পরিবেশন, ভীতি প্রদর্শন, প্রতিমার মালা খুলে ফেলার চেষ্টা, সন্দেহজনক ঘোরাঘুরি প্রভৃতি। এসব ঘটনায় ১৮টি মামলা ও ৩০টি জিডি হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ২৯ জনকে। এর মধ্যে হাতেনাতে গ্রেফতার হন ১৯ জন। পূজাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নয়টি অপপ্রচারের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় দুটি মামলা ও একটি জিডি করা হয়। আর গ্রেফতার করা হয় চারজনকে।



