পুঁজিবাজার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুঁজিবাজার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সুপারিশ পেতে বিশেষ ‘টাস্কফোর্স’ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সোমবার প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠনের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

পুঁজিবাজার সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ এই টাস্কফোর্সের সদস্য হলেন– ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক হেলাল উদ্দীন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান, নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান হুদা ভাসি চৌধুরীর সিনিয়র পার্টনার এএফএম নেসার উদ্দীন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা আকবর এবং ঢাবির অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল-আমিন। প্রয়োজনে কমিটির সদস্য আরও বাড়বে।
বিএসইসি এমন সময়ে এই পুঁজিবাজার সংস্কারে টাস্কফোর্স গঠন করল যখন শেয়ারবাজারে ক্রমাগত দর পতন হচ্ছে। গতকালও প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৩৬০ কোম্পানির শেয়ার এবং ৩৭ মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে (সর্বমোট ৩৯৭টি) ২৮৬টির বা ৭২ শতাংশের দর পতন হয়েছে। বিপরীতে মাত্র ৫৩টির বা ১৩ শতাংশের দর বেড়েছে, অপরিবর্তিত ৫৫টির দর। এতে এ বাজারের প্রধান মূল্যসূচকের পতন হয়েছে ৭৩ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ, নেমেছে ৫৩৩৫ পয়েন্টে। এদিন বেঞ্চমার্ক সূচক ডিএস-৩০ভুক্ত শেয়ারগুলোর দর পতনে এ সূচকও ১ দশমিক ১২ শতাংশ পতন হয়েছে।

শুধু শেয়ারদর বা সূচকের পতন নয়; শেয়ার লেনদেনও ব্যাপক হারে কমেছে। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শেয়ারদর ও সূচক বৃদ্ধির পাশাপাশি এক দিনের শেয়ার কেনাবেচা ২ হাজার কোটি টাকাও ছাড়িয়েছিল। কিন্তু অচিরেই ফের দর পতনের বৃত্তে ফিরেছে এ বাজার। গতকাল ঢাকার শেয়ারবাজারে ৩৬৬ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যেখানে গত ১১ আগস্ট ২ হাজার ১০ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল।
এ অবস্থায় চূড়ান্ত সুপারিশমালা প্রদানের আগেই বিশেষ এ টাস্কফোর্স বর্তমান বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে দ্রুততম সময়ে কিছু সুপারিশ প্রদানে কাজ করবে বলে সমকালকে জানিয়েছেন এর একজন সদস্য।

টাস্কফোর্সের বিশেষ দায়িত্ব হলো পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিতে সুপারিশমালা প্রণয়ন। টাস্কফোর্সের কার্যপরিধি হবে বাংলাদেশের অর্থনীতির সঙ্গে কেন পুঁজিবাজারের আকার সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বড় হয়নি, তা বের করা। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে ব্যাংক ঋণের পরিবর্তে পুঁজিবাজার থেকে অর্থায়নে সরকারের আর্থিক নীতি প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণে কমিশনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। বিএসইসির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিত করা, স্টক এক্সচেঞ্জসহ সব বাজার পরিচালনায় মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তদারকি এবং তাদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করা। পাশাপাশি পুঁজিবাজারকে বিশ্বমানে উন্নীত করা, আইপিও, ডেট সিকিউরিটিজ ও প্রাইভেট প্লেসমেন্ট প্রক্রিয়ায় মূলধন সংগ্রহে যুগোপযোগী নীতিমালা, আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের পথনির্দেশনার জন্য সুপারিশ তৈরি করবে টাস্কফোর্স।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button