উত্তরায় সন্ধ্যা নামতেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট

নিজস্ব প্রতিবেদক :রাজধানীর উত্তরায় সন্ধ্যা পরপরই জনজীবনে শুরু হয় এক অজানা আতঙ্ক। কারণ এই অভিযাত এলাকার বিভিন্ন সেক্টরে গড়ে উঠেছে বৈধ্য-অবৈধ্য মদের বার। সন্ধ্যার পরপর শুরু হয় জনজীবনে এক ভুতুড়ে আতঙ্ক। সেই আতঙ্ক নিয়ে চলা ফেরা করতে হয় উত্তরার বাসিন্দাদের।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, উত্তরা জুড়ে প্রায় ডজন খানেকের বেশি মদের বার রয়েছে। যে গুলো মূলত স্কুল-কলেজ বা ধর্মীও উপশনালয় এর পাশে অবস্থিত। তাছাড়া মদের বার গুলো আবাসিক হওয়ায় অত্র এলাকার বাসিন্দারা রাতের বেলাতেও নিজ বাসায় ভয় ও আতঙ্ক নিয়ে থাকেন।

উত্তরার আবাসিক এলাকায় মদের বাার বন্ধের দাবিতে গত ২৪ এপ্রিল উত্তরার আলম-উলামা ও মুসল্লিরা র‌্যালি ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। এছাড়াও বারগুলোর সামনে এলকাবাসী ২৬ এপ্রিল থেকে টানা তিনদিন বিক্ষোভ করেন। এরই প্রেক্ষিতে উত্তরা জোনের ডিসির নেতৃত্বে বারে অভিযান চালিয়ে ১৪৪ জনকে আটক করা হয়।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, উত্তরায় টাইগার বার, সিটি বার , ক্যাম্ফায়ার বার, মার্গারিটা বার, কিচেন হাউজ বার, কিংফিসার বার, নেক্সট বার, কম্বো রেস্তোরেন্ট এবং বার, ঢাকা রয়েল ক্লাব, বাংলাদেশ ক্লাবসহ আরও অনেক মদের বার রয়েছে। সেখানে মানা হচ্ছে না কোন প্রকার আইন।

আইনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মদের বার পরিচালনা এবং এর লাইসেন্স প্রাপ্তি নিয়ে কঠোর বিধান রয়েছে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালায়। দেশে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধ এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকার এই আইন প্রয়োগ করে থাকে। আইনের ধারা অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া কোনো স্থানে মদের বার পরিচালনা বা মদ বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
লাইসেন্স প্রাপ্তির শর্তে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক মানের হোটেল (সাধারণত ৩-তারকা বা তার বেশি) যেখানে বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত রয়েছে, তারা বারের আবেদন করতে পারে। অন্তত তিন বছর ধরে নিবন্ধিত এবং সক্রিয় ক্লাব, যাদের সদস্যদের মধ্যে মদ্যপানের বৈধ পারমিটধারী ব্যক্তি রয়েছেন, তারা লাইসেন্সের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং হাসপাতালের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে কোনো বারের লাইসেন্স প্রদান করা হয় না। আইন অনুযায়ী, বারের লাইসেন্স থাকলেও সেখানে যে কেউ পান করতে পারবেন না। কেবল বৈধ ‘পারমিটধারী’ ব্যক্তিরাই বারে বসে পান করার সুযোগ পান। অমুসলিম নাগরিকদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে পারমিট দেওয়া হলেও, মুসলিম নাগরিকদের ক্ষেত্রে সিভিল সার্জনের স্বাস্থ্যগত সুপারিশ ব্যতিরেকে পারমিট প্রদান করা হয় না। তবে বিদেশি নাগরিকদের জন্য এই নিয়ম শিথিলযোগ্য। বার পরিচালনার ক্ষেত্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক। এছাড়া সরকার নির্ধারিত সময়ের বাইরে বার খোলা রাখা আইনত নিষিদ্ধ। লাইসেন্সে উল্লিখিত মাদকদ্রব্যের পরিমাণের চেয়ে বেশি মজুদ রাখা বা অবৈধভাবে বাইরে সরবরাহ করলে লাইসেন্স বাতিলের পাশাপাশি জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্স বা পারমিট ছাড়া অ্যালকোহল সেবন, বিক্রয় বা সংরক্ষণ করলে অপরাধের ধরণভেদে সর্বনিম্ন ৬ মাস থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এইসব আইন-কানুন তোয়াক্কা না করে দেদারছে চলছে মদের বার গুলো। পারমিট ছাড়া উঠতি বয়সী তরুন-তরুনিদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে মদ। তারা আবার নেশায়মক্ত হয়ে মাতলামি করছে। প্রায় সময়ই দেখা যায় বারগুলোর সামনে মদ খেয়ে মারামারি বা হাতিতে জড়াতে। রাতের বেলায় আবাসিক এলকায় চিৎকার-চেচামেচি করতে। এতে উত্তরা আবাসীক এলাকাগুলোর পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। নিজ বাড়িতে এই এলাকার মানুষজন থাকেন আতঙ্কে।
আবাসিক এলাকায় এভাবে বার গড়ে ওঠায় চরম ক্ষুব্ধ উত্তরার এলাকার বাসিন্দারা। তাদের মতে, সারারাত বারগুলো খোলা থাকার প্রভাবে এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে কিশোর গ্যাং–এর দৌরাত্ম্য এখন সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারের সামনে গভীর রাত পর্যন্ত অপরাধীদের মহড়া চলায় সাধারণ নাগরিকরা পরিবার নিয়ে চলাফেরা করতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এলকাবাসী বলছে, আমাদের সন্তানেরা চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। জালিয়াতি করে লাইসেন্স নিয়ে তারা বারে ঢুকছে, অথচ দেখার কেউ নেই। প্রশাসন কঠোর না হলে উত্তরায় বসবাস করার অযোগ্য হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে মদের বারের নিতিনির্ধারকরা বলছেন, তারা সকল আইন মেনে বার পরিচালনা করছেন। আইনের কোন ব্যত্তয় তারা করছেন না। অন্যদিকে একপ্রশ্নের জবাবে টাইগার বার এর ম্যানেজার লুৎফর রহমান বলেন, ভাই আমরা বাংলাদেশে বসবাস করি, আমরা সবকিছু মেনেজ করেই এই ব্যবসা পরিচালনা করি। আমরা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রনের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেই ব্যবসা করি।

উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তারেক আহমেদ বেগ বলেন, মদের বারের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। আমাদের এই অভিযান চলমান রয়েছে। বিস্তারিত  আসছে প্রিন্টে….

Related Articles

Back to top button