সুমনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন

নিজস্ব প্রতিবেদক :কুমিল্লা-১ আসনের সাবেক আ’লীগ এমপি মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভুইয়া, তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার এবং পুত্র সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল (বুধবার) এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থার একটি সূত্র। সূত্রটি জানায়, অভিযোগ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সুবিদ আলী ভুঁইয়া রাজনীতিতে ‘সুবিধা আলী ভুইয়া’ নামেও পরিচিত। তিনি চাকরিতে থাকাকালে তৎকালিন বিএনপি সরকারের কাছ থেকে নানা রকম সুবিধা নিয়ে পরবর্তীতে শেখ হাসিনার মাফিয়া সরকারের এমপি হন।

দুদক সূত্র জানায়, সুবিদ আলী ভুইয়া ওরফে ‘সুবিধা আলী ভুঁইয়া’ এবং তার পরিবারের সদস্যরা ব্যক্তিগত ভাবে নিজের স্বার্থ কিছুই বুঝতেন না। স্ত্রী-পুত্র দু’হাতে রপ্ত করেছেন টাকা। সবেক এমপি সুবিদ আলী ভুইয়া, তার স্ত্রী এবং পুত্র ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা ধরণের অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এর মধ্যে রয়েছে মেঘনা ও গোমতী নদীর বালু মহাল, টোলপ্লাজাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে লঞ্চ টার্মিনাল ও বাস স্ট্যান্ড থেকে চাঁদাবাজি,লুটতরাজ, জমি দখল, ঘুষ গ্রহণ এবং মাদক ব্যবসা।

পিতা-পুত্রের সম্পদের পাহাড় : ক্ষমতার অপব্যহারের মাধ্যমে আ’লীগ এমপি সুবিদ আলী ভুইয়া, তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার এবং পুত্র মোহাম্মদ আলী সুমন নামে- বেনামে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। এর মধ্যে রয়েছে,গাজীপুর মাজুখান বাজারের দক্ষিণে রেল লাইনের পাশে ১৫ বিঘা জমি। এর বাজার মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। গাজিপুর সিটি করপোরেশনের আওতায় চামড্ডা মৌজায় এশিয়ান হাইওয়ের পাশে ১৫ বিঘা জমির ওপর বাগান বাড়ি। এটির বাজার মূল্য প্রায় ৩২ কোটি টাকা। একই এলাকার কাশিমপুরে রয়েছে ৩০ বিঘা জমি। এটির মূল্য ৫০ কোটি টাকা। সাভারের গনককারীর গোবিন্দপুর মৌজায় ১৫ বিঘা জমি। এটির বাজার মূল্য প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। ডিওএইচএস ৩শ’ ফিট এক্সপ্রেসওয়ের কাছে ৫ বিঘা জমি। ৩শ’ ফিট রাস্তা সংলগ্ন জলসিঁড়িতে মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলীর নামে ৫ কাঠা জমি। এটির মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা। আসিয়ান সিটির বরুয়া মৌজায় ৫ বিঘা জমি। মূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকা। রাজধানীর কলাবাগানে ৭ কাঠা জমির ওপর ১০ তলা ‘ডি.কে. টাওয়ার’। ব্যাংক ঋণে এই টাওয়ার করা হয়েছে-মর্মে ট্যাক্স ফাইলে তিনি দাবি করলেও ঋণ পাওয়ার আগে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে বেজমেন্ট ও এক তলার কাজ করেন। এই টাওয়ারের বর্তমান মূল্য প্রায় ৭০ কোটি টাকা। মহাখালি ডিওএইচএস এ ৫ কাঠার ওপর ৫ তলা ভবন। এটির এখনকার মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। নিজ এলাকা দাউদকান্দিও জুরানপুর,বরারচর মৌজায় ১৫০ বিঘা জমি। এটির আনুমানিক মূল্য ১শ’ কোটি টাকা। দাউদকান্দি পৌরসদরে ওজারভাঙ্গা মৌজায় ৪০ শতাংশ প্লটের ওপর বহুতল ভবন নির্মাণ চলছে। এটিতে বিনিয়োগ প্রায় ১০ কোটি টাকা। সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে সঞ্চয়পত্র ও এফডিআর রয়েছে ২০ কোটি টাকার। এছাড়া দাউদকান্দি এবং ঢাকার বিভিন্ন ব্যাংকে নগদ অর্থ রয়েছে ১ কোটি টাকা।

সুবিদ আলী ভুইয়ার মেজো ছেলে শওকত আলী কাছে যুক্তরাজ্যে ২০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। সেখানে বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি নিয়ে রাজকীয় হালে বসবাস করেন তিনি। ছোট ছেলে জুলফিকার আলর কাছে মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে ২৫ কোটি টাকার বেশি। তিনিও সেখানে রাজকীয় জীবন যাপন করছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button