শাহজালালসহ সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

মো. আরিফ হোসেন চৌধুরী: আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) আসন্ন নিরাপত্তা অডিটকে সামনে রেখে দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ভিআইপি, সিআইপি ও সাধারণ যাত্রী—সবার জন্য অভিন্ন নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ এবং বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন ঠেকাতে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএএসসি) প্রথম সভায় এসব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। সহসভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ সময় বেবিচক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির আগের সভাগুলোর সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। খুব শিগগিরই আইসিএওর নিরাপত্তা অডিট অনুষ্ঠিত হবে এবং এর ফলাফলের সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি জড়িত। তাই সম্ভাব্য সব পর্যবেক্ষণ বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড শতভাগ অনুসরণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভিআইপি, সিআইপি কিংবা সাধারণ যাত্রী—সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য উল্লেখ করে তিনি প্রবাসী যাত্রীদের উন্নত ও নির্বিঘ্ন সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন রোধে আধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রায় তিন বছর পর নিরাপত্তা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও স্ক্যানিং যন্ত্রপাতির পর্যাপ্ত মজুত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় বৃদ্ধি, জাতীয় বিমান নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়ন, আইসিএওর মানদণ্ড অনুসরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযোজনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথের নিরাপত্তা জোরদার করা, আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেমের (ইউভিএসএস) কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে শাহজালাল বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অনিয়ন্ত্রিত লোকসমাগম, ভিক্ষুকের উপদ্রব ও অবৈধ লাগেজ র‌্যাপিং নিয়ন্ত্রণে বেবিচক, এপিবিএন, পুলিশ, আনসার ও এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

Related Articles

Back to top button