প্রতি ছয় দম্পতির একজন বন্ধ্যাত্বে ভুগছেন


দেশে কত সংখ্যক বিবাহিত দম্পতি বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় ভুগছেন তার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও চিকিৎসকদের সেবাদানের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতি ছয় দম্পতির একজন এই সমস্যায় ভুগছেন। তবে আগের তুলনায় এখন চিকিৎসা গ্রহণের প্রবণতা ও আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশ্ব আইভিএফ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর লুমিনা আইভিএফ সেন্টার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভ্রূণতত্ত্ববিদ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব তথ্য জানান।
অনুষ্ঠানে চিকিৎসকরা বলেন, দেশে চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বন্ধ্যাত্বসেবা পর্যাপ্ত পরিমাণে সম্প্রসারিত হয়নি। ফলে অধিকাংশ রোগীকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে মাত্র তিনটি আইভিএফ সেন্টার রয়েছে—যার মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) সাধারণ মানুষের জন্য এবং ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য সেবা দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, সরকারি কেন্দ্রের বাইরে দেশে প্রায় ২২টি বেসরকারি আইভিএফ সেন্টার রয়েছে, যার অধিকাংশই রাজধানীকেন্দ্রিক। ঢাকার বাইরে কেবল চট্টগ্রামে দুটি, মৌলভীবাজারে একটি এবং খুলনায় একটি কেন্দ্র রয়েছে।
চিকিৎসকদের তথ্য মতে, বর্তমানে দেশে বিসিপিএস থেকে ডিগ্রিধারী রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ রয়েছেন প্রায় ৭০ জন। পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আরও অনেকে এই সেবার সঙ্গে যুক্ত আছেন। বর্তমানে বিভিন্ন আইভিএফ সেন্টারে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন চিকিৎসক সরাসরি আইভিএফ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
লুমিনা আইভিএফ লিমিটেডের চিফ এমব্রায়োলজিস্ট জানান, বাংলাদেশের আইভিএফ চিকিৎসা এখন বিশ্বমানের পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং সব ধরনের আধুনিক সেবা দেশেই পাওয়া যাচ্ছে। সঠিক সময়ে সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব।
অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি, স্ত্রীরোগ ও ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।




