বগুড়ায় সবজির দাম তলানিতে, খরচও উঠছে না কৃষকের

জেলা প্রতিনিধি, বগুড়া : উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ সবজির মোকাম বগুড়ার মহাস্থান হাট। ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজর, টমেটোসহ শীতকালীন বিভিন্ন সবজির সমাহার ঘাটে এই হাটে। শুধু স্থানীয় সবজি নয়, উত্তরের বিভিন্ন জেলা থেকে সবজি আসে এখানে। দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারি ক্রেতারা এখান থেকে সবজি কিনে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যান।

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে চাষিরা তাদের উৎপাদিত সবজি নিয়ে আসতে শুরু করেন এই হাটে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে সবজি বাজার। সপ্তাহের ব্যবধানে আলু ও পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার দাম ঠেকেছে তলানিতে। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বাজারে মুলা প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে দুই টাকা। ফুলকপি ২ থেকে ৩ টাকা কেজি। দাম একেবারে কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চষিরা।

বগুড়া শিবগঞ্জ এলাকার জসিম শীতে বিক্রির উদ্দেশ্যে ২ বিঘা জমিতে মুলা চাষ করেন। প্রতি বিঘায় ২০ হাজার টাকার অধিক খরচ হয়েছে তার। তিনি জানান, পূর্বে যা খরচ করেছি তা নিয়ে আর চিন্তা করছি না, কিন্তু জমি থেকে ফসল তুলে ধুয়ে বস্তাবন্দি করে বিক্রি করতে যে খরচ হচ্ছে তাও উঠছে না।

এদিকে বগুড়া ও রাজশাহীর বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে আসা মিষ্টি কুমড়ায় ছয়লাব মহাস্থান বাজার। প্রতি কেজি মিষ্টি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ টাকায়। মিষ্টি কুমড়া চাষে কিছু চাষি লাভের মুখ দেখলেও, পোকা দমনে কীটনাশক ও ভালো ফলনের আশায় সার প্রয়োগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেক চাষি। তাদের অভিযোগ নকল ও মানহীন সার কীটনাশকে ভরে গেছে বগুড়ার বাজার।

সারিয়াকান্দি এলাকার মুক্তার, সারিয়াকান্দি চর এলাকার চাষিদের কাছে থেকে মিষ্টি কুমড়া সংগ্রহ করে বিক্রি করতে এসেছেন এই হাটে। সারা বছর চাহিদা থাকায় এবং সংরক্ষণ সহজ হওয়ায় মিষ্টি কুমড়ার বিক্রি কমেনি।

শীতের মাঝামাঝি সময়ে সবজি সরবরাহ বেড়েছে কয়েক গুণ। বছরের সবচেয়ে বেশি সরবরাহের এই সময় তলানিতে সবজির দাম। প্রতিটি সবজির বাজার মূল্য ৩০ টাকার কম। কাঁচা মরিচ ও বেগুন বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা কেজিতে, শিম, শশা, গাজর বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ১২ টাকা প্রতি কেজি।

জানা গেছে, শুধু বগুড়ার প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে সবজি। এই জমিতে উৎপাদিত সবজির বড় অংশ আসে মহাস্থান বাজারে। আর এই মহাস্থান বাজার থেকেই প্রতিদিন কয়েক হাজার টন সবজি চলে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

Related Articles

Back to top button