ভোল পাল্টে রশিদের হাত ধরে বিএনপি সমর্থক হতে চান সাইদুর রহমান সজিব!

বিএনপি নেতা রশিদ এর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: সাইদুর রহমান সজিব। নিজেকে একসময় আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেন। সরব উপস্থিতি ছিল গত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও। তিনি একসময় ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর সমর্থক ছিলেন। বিগত সরকারের সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। তবে আওয়ামী লীগের পতনের পর সজিব ভোল পাল্টে আশ্রয় নিলেন বিএনপির ছায়াতলে। সেজন্য সজিব বেছে নিয়েছেন উত্তরখান থানার যুগ্ম আহ্বায়ক রশিদ ভূইয়াকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সজিব এর বাবা একজন অবসর প্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী। উত্তরখান এলাকায় তার বসবাস। তিনি উত্তরখানে গোলাম রব্বানির প্রভাব খাটিয়ে বাগিয়ে নিয়েছেন ইন্টারনেটের ব্যবসা। অত্র এলাকার নির্মিত বিভিন্ন বিল্ডিং এর মালিকদেরকে ভয়-ভিতি দেখিয়ে সাপ্লাই দিতেন নির্মাণ সামগ্রী।

স্থানীয়রা জানান, সজিবকে সবসময় দেখেছে আওয়ামী লীগের মিটেং-মিছিলে এবং আওয়ামী লীগের লোকজনের সাথে মিশতে। এখন হঠাৎ বিএনপির নেতা রশিদ ভূইয়ার সাথে। তার মূলকাজ হলো বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট এর লাইন দখল করাসহ বিভিন্ন বিল্ডিং এর নির্মাণ সামগ্রী জোড় করে সরবরাহ করা এবং এলাকার বিভিন্ন ভাবে মানুষদের হয়রানি করা। বর্তমানে তিনি ভোল পালটে হয়েছেন বিএনপির সমর্থক।

স্থানীয়রা আরও জানান, একাধিক বিএনপি নেতার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠেছে তার। আওয়ামী লীগ আমলে সজিব ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী, সাবেক এমপি হাবিব হাসানের ভাতিজা কবির, অত্র এলাকার হত্যা মামলাসহ একাধীক মামলার আসামী রনি ওরফে মুসা ভাইয়ের দাপটে বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়াতেন।

স্থানীয়রা জানান, বিএনপি নেতা রশিদ ভূইয়া ও সজিব একটি চক্র। রশিদ ভুঁইয়ার উত্তরখান থানা স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা রশিদ ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানুষের জমি দখলে নিয়ে দেওয়াসহ ডিস, ইন্টারনেট ও অটোরিকশায় চাঁদাবাজির বিস্তার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের সতত্যা যাচাই করতে সরেজমিনে উত্তরখান এলাকা ঘুরে দেখাযায় তাদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে এলাকাবাসির মধ্যে। এইসব বিষয়ে ভয়ে মুখ খুলছে না এলাকাবাসী।

উত্তরখান এলাকায় ভুক্তভোগী একজন ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায়, একসময় তার ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসার ভাগ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের দিতে হতো। যেদিন থেকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে নেমে যায় তার দুইদিন পরেই তার ব্যবসা দক্ষলে নেয় এই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা। কিন্তু বিস্ময়কর ভাবে সজিব এর ইন্টারনেট লাইন দখল হয় নেয় না এই নেতা। কারণ সজিব আওয়ামী লীগ এর সক্রিয় সদস্য ছিল। এখন তিনি বিএনপি’র নেতাদের ছত্রছায়ায় আছে।

একই এলাকার অন্য আরেক ব্যবসায়ী বলেন, প্রথমে আমার ব্যবসা দখলে নিতে চেয়েছিলো। পরে অনেক অকুতি মিনতি করে তাকে মাসে মোটা অংকের টাকা দেওয়ার শর্তে আমি ব্যবসা এখনো টিকিয়ে রেখেছি।

এই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে রয়েছে বাড়ি ও জমি দখলে নিয়ে দেওয়ার অভিযোগও।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী বলেন, কারো নাম বলবো না আপনারা বুঝে নিয়েন। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ৮ই আগস্ট রাতে কিছু লোক আমার ভাড়া করা বাসায় হামলা চালায়। আমার ভাড়াটিয়াদের ভয়-ভীতি দেখায় এবং ঘরের মালালসহ তাদের বাসা থেকে বের করে দেয়। এই জমি নিয়ে এখনো মামলা চলমান রয়েছে। তারপরও সে অন্যের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আমাদের বাসা থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করে। এই বিষয়টা মাজার এলাকার মানুষ সবাই জানে।

জমি নিয়ে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, আমি এই জমি দেখবালের দায়িত্বে আছি। কারো সাথে কথাবার্তা না বলে রশিদ ভাইয়া আমাদের জমির গেইটের তালা ভেঙে তার নিজের একটি তালা গেইটে লাগিয়ে দেয়। এ বিষয় নিয়ে আমরা খুব আতঙ্কে আছি।

তার সম্পর্কে আরো জানা যায়, ঐ এলাকার প্রতিটা গার্মেন্টস থেকে তাকে চাঁদা দেওয়া হয়।

তালতলা এলাকার একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী বলেন, এই এলাকায় ব্যবসা করি বহুদিন ধরে। দয়া করে আমার নাম বলবেন না। অনেক সমস্যায় আছি। সরকার পরিবর্তন হয়ে লাভ কি? আগে দিতাম আওয়ামী লীগকে এখন দেয় বিএনপির রশিদকে। এমনিতেই ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা খারাপ। টাকা দেওয়া ছাড়া ব্যবসা করতে পারবো না। এলাকা ঘুরে দেখেন তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ পাবেন।

অত্র এলাকার মাজার চৌরাস্তায় অটো রিক্সা ও রাজাবাড়ী একালয় সিটি কর্পোরেশনের ময়লা থেকে চাঁদা নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উত্তরখান মাজার চৌরাস্তায় গিয়ে দেখা যায়, আলমগীর নামে একজন লোক প্রতিটা অটো থেকে চাঁদা তুলছে।

এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি অকুপটা স্বীকার করে বলেন, এইখানে জ্যাম লাগেতো তাই আমাকে এইখানে একজন বিএনপি নেতা ও একজন সমন্বয় জ্যাম সারাতে ও লাইন ঠিক রাখতে রাখছেন। এখানে অটো ড্রাইভার আমাকে ৫-১০ টাকা দেয় তা দিয়েই সবাইকে নিয়ে চলতে হয়।

এছাড়াও এলাকার অনেকেই ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে সাহস পায় না।

অভিযোগ বিষয়ে সাইদুর রহমান সজিবকে বার বার ‍মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

এই বিষয়ে রশিদ ভূইয়ার সাথে যোগাযোগ হলে তিনি বলেন, আমাদের মহানগরের নেতাদের নির্দেশ আওয়ামী লীগের কোন নেতা-কর্মী বিএনপিতে প্রবেশ করতে পারবে না। জমিদখল ও চাঁদাবাজির সম্পর্কে তিনি বলেন, এইসব সত্যি না, মিথ্যা কথা।

এই বিষয়ে উত্তরখান থানার আহ্ববায়ক রফিক বলেন, আমি এ বিষয়ে এখোন কিছু জানি না। যদি এমন কোন ঘটনা ঘটে তাহলে আমাকে জানাবেন। আমি ব্যাবস্থা নিবো।

বিস্তারিত প্রিন্টে………………

Related Articles

Back to top button