নতুন প্রজন্ম যে কারণে ব্রেন রটের শিকার হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক: ইন্টারনেট সংস্কৃতিতে মস্তিষ্ক পচা বা ব্রেন রট বলতে নিম্নমানের বা আবেগীয় কোনো ইন্টারনেট বিষয়বস্তু দ্বারা সৃষ্ট নেতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক এবং জ্ঞানীয় প্রভাবকে বোঝায়। ডিজিটাল মিডিয়ার অত্যধিক ব্যবহারকেও ব্রেন রট নির্দেশ করা হয়। শব্দটি জেনারেশন আলফা এবং জেনারেশন জেডের অনলাইন সংস্কৃতির মধ্যে উদ্ভূত হয়েছিল, কিন্তু তার পর থেকে এটি মূলধারায় ঠাঁই নিয়েছে। শব্দটি ২০২৪ সালে অক্সফোর্ড ওয়ার্ড অব দ্য ইয়ার বিবেচিত হয়েছিল।
সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক মেডিক্যাল প্রফেশনাল ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মোবাইলে আসক্ত বা ব্রেন রটের শিকার নতুন প্রজন্মের মানসিক সুস্থতা ফিরে পাওয়ার একটা পন্থা উপস্থাপন করেছেন। গবেষকরা বেশ কিছু কেস স্টাডির ভিত্তিতে ব্রেন রট ঠেকানোর পন্থা উদ্ভাবন করেছেন। সব কয়টি কেস স্টাডিতে দেখা গেছে, প্রখর মেধাবী শিশুও স্মার্টফোন হাতে পাবার থেকে ভিন্ন ধাঁচের মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠার চেষ্টা করে।
তারা বলেন, ডিজিটাল জগতের প্রতি শিশুদের আগ্রহ থাকতেই পারে, কিন্তু স্মার্টফোন শেষ পর্যন্ত শিশুটির মেধা-মননকে ভিন্ন খাতেও ঠেলে দিতে পারে।
তারা বলেন, যেসব শিশু মোবাইল ফোনে গেমিংয়ে আসক্ত হয়ে পড়ে, তাদের অবস্থাও একই পরিণতির দিকে ছুটে চলে।
পটেনশিয়া ক্লিনিকসের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডক্টর অধিশ্রী যাদব বলেন, ‘ব্রেন রটের কারণে শিশুর মস্তিষ্ক অতি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। এটার পরিণতি হচ্ছে মানসিক অবসাদ ও বিভ্রান্তি। তাদের ফোকাস ও মনোযোগে ভারসামহীনতা প্রকট হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে করপোরেট সাইকোলজিস্ট ডক্টর ওলগা একসেননোভা বলেন, অবিরাম তথ্য পেলে মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোব নিজেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এই কারণে শিশুরা প্রায় ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিষয়ে মনোযোগ স্থির রাখতে পারে না ইচ্ছে থাকার পরও। আমি বলব, সোশাল মিডিয়া মূলত মানুষের মেন্টাল ব্যান্ডউয়িডথকে সংকীর্ণ বানিয়ে দিচ্ছে।’
গবেষকরা বলেন, ব্যায়াম, সৃষ্টিশীল কাজে জড়ানো আর চোখের দিকে তাকিয়ে মতবিনিময় করা হলে নতুন প্রজন্ম ব্রেন রট থেকে ধীরে ধীরে ফিরে আসতে পারে। তবে এই কাজটি ধৈর্যের সঙ্গে বারবার করে যেতে হবে।
দৈনিক একটি সময় নির্দিষ্ট করে দিন, যখন শিশুটি ১৫ মিনিটের জন্য মোবাইল বা ল্যাপটপ থেকে দূরে থাকবে। ধীরে ধীরে সময়টি বাড়িয়ে দিন।



