বাংলাদেশে সরকার বদলায়, বদলায় না রাজনৈতিক সহিংসতার চিত্র


বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সরকার পরিবর্তন হলেও স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তার, পদপদবী, ব্যবসা ও সম্পদ দখলের সহিংসতা থামছে না। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময়ের মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), একাডেমিক গবেষণা এবং সংবাদ প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর সংঘর্ষ, নিজ দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা এক সরকার থেকে অন্য সরকারে নিয়মিত আবর্তিত হয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতার ৪৬৭টি ঘটনায় ৯৪ জনের মৃত্যু এবং ৩ হাজার ৫৮৭ জন আহত হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত করেছে আসক। এর মধ্যে ১১২টি সংঘর্ষকে ‘বিএনপি বনাম বিএনপি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাতে ১৮ জন নিহত এবং ১ হাজার ২১৫ জন আহত হন। পরিসংখ্যানগুলোতে অন্তর্বর্তীকালীন ও নির্বাচিত—উভয় সরকারের আমলের ঘটনাই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপিপ্রধান তারেক রহমান।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সমস্যা কোনো নির্দিষ্ট দলের বা একক সরকারের নয়। ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় আসক বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ২৮৪টি ঘটনা এবং ৫৫ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করেছিল, যেখানে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৩৭ জন মারা যান। একইভাবে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর দলটির অভ্যন্তরীণ সহিংসতা বৃদ্ধি পায় এবং ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৭৯৯টি অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৯৭ জনের মৃত্যু হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় পদ-পদবি, ঠিকাদারি, সম্পত্তি ও ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে দলের ভেতরের প্রতিযোগিতা এবং ক্ষমতার লোভই এসব প্রাণহানির মূল কারণ। জাতীয় রাজনীতির পটপরিবর্তন ঘটলেও তৃণমূল স্তরে চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণের লড়াই অব্যাহত থাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার এই চিরচেনা চিত্র বদলায়নি।




