রোনালদোর ৪০, নেইমারের ৩৩, তেভেজের ৪১– আজ ফুটবলের দিন

স্পোর্টস ডেস্ক: ৫ ফেব্রুয়ারির তারিখটাকে হয়ত একটু আলাদাভাবে আপনি উদযাপন করতেই চাইবেন। অন্তত যদি ফুটবল ভক্ত হয়ে থাকেন। ফুটবলের জন্য এমন আশীর্বাদের দিন বলতে গেলে আর আসেইনি। একইদিনে পৃথিবীর আলো দেখেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, নেইমার জুনিয়র, কার্লোস তেভেজের মতো তারকারা। নামের লিস্ট অবশ্য আরও খানিকটা বড়।

এই তালিকায় যোগ করুন সিজার মালদিনির নামটা। নামের শেষাংশের জন্য তাকে পরিচিত লাগতেই পারে। তিনি পাওলো মালদিনির বাবা। এসি মিলান আর মালদিনি পরিবারের সংযোগের সূত্রটা তারই হাত ধরে। এই তালিকায় আরও আছেন গিওর্গি হাজি। রোমানিয়ার ইতিহাসের সেরা ফুটবলার হিসেবে যাকে আজও মনে রাখে ফুটবলের দুনিয়া।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আলাপই সবার আগে করা যাক। মাদেইরা, ম্যানচেস্টার, মাদ্রিদ, তুরিন হয়ে এখন রাজ করছেন সৌদি আরবের রিয়াদ শহর। কঠোর পরিশ্রম একজন ফুটবলারকে ঠিক কোথায় নিয়ে যেতে পারে তার সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণের একটি হয়ত তিনিই। মাদেইরার রাস্তায় জীবনের শুরুর দিনগুলো ভাবলে রোনালদোর চোখের কোণে আজও জল জমে। সেখান থেকে পেয়েছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের সান্নিধ্য। ভোলেননি স্যার ফার্গির শিক্ষা।

নিজেকে প্রথমে করেছেন প্রজন্মের সেরা। সেখান থেকে রোনালদো আজ সর্বকালের সেরাদের একজন। আনুষ্ঠানিক হিসেব বলছে, তিনিই রাজকীয় এই খেলার সর্বোচ্চ গোলদাতা। বয়স যখন ৪০, তখন পর্যন্ত নিয়মিত গোল করে চলেছেন সৌদি লিগে।

ফুটবলের পরিশ্রমের সঙ্গে হাত ধরাধরি করে চলে প্রতিভা শব্দটা। প্রতিভার প্রশ্নে নেইমার জুনিয়রের নামটা উঠে আসবে প্রজন্মের কাছে। ইনজুরির থাবায় বারবার ক্ষতবিক্ষত তিনি। জীবনের কিছু ভুল সিদ্ধান্ত আর ইনজুরিকে পাশ কাটিয়েও অবশ্য নেইমার অনন্য, অনবদ্য। বল পায়ে সবুজ গালিচায় ছুটতে থাকা একজন নেইমার এখনো কোটি কোটি চোখের তৃপ্তির কারণ।

ইনজুরির কারণে কখনোই বড় পুরস্কারের পোডিয়ামে দেখা যায়নি নেইমারকে। তবে প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ নেই। সান্তোস থেকে বার্সেলোনায় যখন এসেছিলেন, তখন তাকেই ভাবা হয়েছিল ফুটবলের সবচেয়ে নিরাপদ ভবিষ্যত। সেই উচ্চতায় যেতে না পারলেও অর্জন একেবারেই কম না বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ ও দুবার লা লিগা জিতেছেন নেইমার। পিএসজির হয়েও পাঁচবার জিতেছেন লিগ ওয়ান। আর ব্রাজিলের মতো দেশে তিনিই সর্বোচ্চ গোলদাতা।

নেইমার আর রোনালদোর চেয়ে একেবারেই ভিন্ন ধাঁচের খেলোয়াড় কার্লোস তেভেজ। অনেক বেশি বিতর্কিত, ক্ষ্যাপাটে। অনেকটা বুনো। তবে গোলের সামনে তিনি সমসাময়িকদের মাঝে সেরার কাতারে থাকবেন। ওয়েইন রুনি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আর কার্লোস তেভেজের সেই ফ্রন্ট থ্রি ইংলিশ ফুটবল থেকে ইউরোপ সবখানেই রাজত্ব করেছিল একটা লম্বা সময়।

সিজার মালদিনিকে নিয়ে আলাপটা বরাবরই খানিক কম। ডিফেন্ডাররা পাদপ্রদীপের আলো থেকে কিছুটা দূরে থাকছেন, সেটাই হয়ত স্বাভাবিক। কিন্তু আধুনিক যুগে ডিফেন্ডারদের সুইপার রোলের শুরুটাও তারই হাত ধরে।

এত তারকার ভিড়ে ৫ ফেব্রুয়ারির দিনটা যে একান্তই ফুটবলের, সেটাও হয়ত সহজেই বলা চলে।

Related Articles

Back to top button