ইউক্রেনে বহুতল ভবনে রাশিয়ার ড্রোন হামলা, নিহত ৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:ইউক্রেনে একটি বহুতল ভবনে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। পূর্ব ইউরোপের এই দেশটির সুমি অঞ্চলে চালানো এই হামলায় ৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৩ জন।

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই তথ্য জানিয়েছেন বলে শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের সুমি শহরের একটি বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে রাশিয়ার ড্রোন আঘাত হানে, যার ফলে ৯ জন নিহত এবং এক শিশুসহ ১৩ জন আহত হয়েছেন। জেলেনস্কি তার রাতের ভিডিও ভাষণে বলেছেন, “ঘণ্টায় ঘণ্টায় আমরা সুমির পরিস্থিতির আপডেট পাচ্ছি। রাশিয়ান ‘শাহেদ’ (ড্রোন) এর হামলার প্রভাবে সেখানে কাজ চলছে।”

তিনি বলেন, “এই ধরনের হামলা রুশ ক্রিয়াকলাপের বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, হামলা চালিয়ে একটি সম্পূর্ণ ভবনের অনেক পরিবারের জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছে। এই ধরনের প্রতিটি হামলার জন্য বিশ্বের কাছ থেকে উত্তর প্রয়োজন। সন্ত্রাসকে শাস্তির বাইরে রাখা যাবে না।”

রাশিয়া ইউক্রেনে রাতের আঁধারে ৮১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে, যা দেশের চারপাশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বৃহস্পতিবার জানিয়েছে। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী ৩৭টি ড্রোন গুলি করে ধ্বংস করেছে, অন্য ৩৯টি তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। তবে বাকি পাঁচটি ড্রোনের কী হয়েছিল তা স্পষ্ট করেনি তারা।

সুমির গভর্নর ভলোদিমির আর্টিউখ টেলিগ্রামে এক ভিডিওতে ক্রেন এবং ধ্বংসস্তূপের স্তূপের সামনের চিত্র দেখিয়ে বলেছেন, জরুরি পরিষেবাগুলো বিল্ডিংয়ের কিছু অংশ থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছে।

হামলায় পাঁচটি অ্যাপার্টমেন্ট ধ্বংস হয়েছে এবং ২০টিরও বেশি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

রয়টার্স বলছে, এই অঞ্চলটি রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলের সীমান্তবর্তী। রাশিয়ার ওই অঞ্চলে ইউক্রেন গত বছরের আগস্টে হামলা শুরু করে এবং এরপর থেকে নিয়মিত তারা রাশিয়ান ড্রোনের আক্রমণের শিকার হয়েছে।

অন্যদিকে ওডেসার গভর্নরের মতে, ওডেসার দক্ষিণাঞ্চলে রাতের আঁধারে চালানো হামলায় শস্য গুদাম, হাসপাতাল এবং দুটি ব্যক্তিগত বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সেখানে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

রাশিয়া অবশ্য ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক লোকদের লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

Related Articles

Back to top button