সংস্কারের পথে ফিরুন, জনআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়

জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক স্থিরচিত্র প্রদর্শনী ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’-এর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে রাজধানীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে মানুষ যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি।

তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও বর্তমান সরকার পরে সেই অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে। সংস্কারের পথে ফিরুন, জনআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এসময় ১১ দলীয় ঐকের নেতারা, বিভিন্ন পেশাজীবী, দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করলেও প্রকৃত অর্থে জনগণের প্রত্যাশিত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর জাতি একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও সংস্কারের প্রত্যাশা করেছিল। সে সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ঐকমত্যও তৈরি হয়েছিল যে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের আগে সরকারপক্ষ সংস্কারের পক্ষে জনগণের রায়কে সম্মান জানানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সেই অবস্থান থেকে সরে আসে৷ এটি জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

তিনি বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম যে পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে আন্দোলনে নেমেছিল, সেই প্রত্যাশা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।

জামায়াত আমির বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন কোনো একক দলের আন্দোলন ছিল না; এটি শেষ পর্যন্ত একটি গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নিয়েছিলেন।

তিনি দাবি করেন, জনগণ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি চাইলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও সেই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।

তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সংস্কারের পথে ফিরে আসতে হবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যে ৫ আগস্টের তাৎপর্য তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়েছিল এবং সেই বাস্তবতা ভুলে যাওয়া উচিত নয়।

তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দেশে ফেরার প্রসঙ্গও উল্লেখ করে বলেন, গণআন্দোলনের প্রভাবেই সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা জাতির দায়িত্ব। শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ রেখে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে কাজ করতে হবে। অন্যথায় জাতিকে এর মূল্য দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে শহীদদের লেখা বিভিন্ন চিঠির সংকলন বিতরণ করা হয়। এ সময় ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত সবার প্রতি ওই চিঠিগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শহীদদের অনুভূতি, স্বপ্ন ও আত্মত্যাগের বার্তা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো ষড়যন্ত্র বা চাপের কাছে মাথা নত করা হবে না। জনগণের রায় এবং গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাদের রাজনৈতিক সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। জনগণ বিশেষ করে তরুণ সমাজের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘটিত সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শহীদরা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, কিংবা মুক্তিযোদ্ধারা যে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতি সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি শিক্ষাঙ্গণে সহিংসতা ও অস্থিরতা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

Related Articles

Back to top button