রামমূর্তি নির্মাণে আলোচিত হরিদাস সিআইডির জালে

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উঁচু রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ওরফে তাওহীদ ইসলামকে মানি লন্ডারিং ও প্রতারণার মামলায় গ্রেফতার করেছে সিআইডি।

গত ১২ জুলাই পলাশবাড়ীর মন্দির এলাকা থেকে তাকে আটক করার পর উত্তরা পশ্চিম থানার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রমতে পঞ্চম শ্রেণি পাশ হরিদাস একসময় ভারতে ছিলেন এবং পরবর্তীতে ঢাকায় এসি মেকানিক ও সবজি বিক্রেতা হিসেবে কাজ করেন। ২০১৪ সাল থেকে তার আর্থিক উত্থান শুরু হয়। ২০১৮ সাল থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে চাকরি, বদলি, টেন্ডার ও প্রকল্প পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রায় ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। ২০১৯ সালে বিয়ের পর ধর্মান্তরিত হয়ে ‘তাওহীদ ইসলাম’ নাম নেন এবং শ্বশুরের পরিচয়ে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় জমি কিনে ‘প্যারিস সুইমিংপুল এন্টারটেইনমেন্ট পার্ক’ নামে একটি রিসোর্ট তৈরি করেন।

২০২২ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মচারীর বদলি সংক্রান্ত প্রতারণার অভিযোগে র‍্যাব তাকে বনানী থেকে গ্রেফতার করেছিল। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তিনি আবারও নিজ এলাকায় সক্রিয় হন এবং আগের ধর্মে ফিরে যান।

এলাকায় ফিরে তিনি স্থানীয় একটি কালীমন্দির সংস্কার করে ‘শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালীমন্দির’ নাম দেন। সেখানে প্রথমে ৫১ ফুট উঁচু কৃষ্ণমূর্তি এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৮১ ফুট উঁচু রামমূর্তি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি এই প্রকল্পে ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ের দাবি করেন। তবে অর্থের উৎস নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় গত ১১ জুন মন্দির কর্তৃপক্ষ কাজ স্থগিত করে। এছাড়া একটি পরিকল্পিত বৃদ্ধাশ্রমের সদস্য পদের নামে প্রায় সাড়ে ২৫ হাজার মানুষের কাছ থেকে ১,০০১ টাকা করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সিআইডি জানিয়েছে, গত দেড় বছরে হরিদাসের ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের (জমা ও উত্তোলন) তথ্য পাওয়া গেছে, যার কোনো বৈধ উৎস নেই। সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে হরিদাস দাবি করেছেন এই টাকা তার ভক্তরা দিয়েছেন, যা বর্তমানে সিআইডি যাচাই-বাছাই করছে।

Related Articles

Back to top button