গর্ভাবস্থায় মর্নিং সিকনেস সারানোর ঘরোয়া উপায়


গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে প্রথম তিন মাসে বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া খুব সাধারণ একটি সমস্যা, যা ‘মর্নিং সিকনেস’ নামে পরিচিত। প্রায় ৭০-৮০% গর্ভবতী নারী এই সমস্যার মুখোমুখি হন। নাম মর্নিং সিকনেস হলেও এই অস্বস্তি দিনের যেকোনো সময়ই হতে পারে। দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও খাওয়া-দাওয়া স্বাভাবিক রাখতে কিছু প্রাকৃতিক উপায়ে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব:
১. ভিটামিন বি৬ সমৃদ্ধ খাবার
গর্ভাবস্থাজনিত বমি বমি ভাব কমাতে ভিটামিন বি৬ অত্যন্ত কার্যকরী।
-
প্রাকৃতিক উৎস: কলা, আলু, ছোলা, বাদাম, বীজ এবং মুরগির মাংস।
-
বিশেষ নোট: কোনো সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
২. অল্প অল্প করে ঘন ঘন খাওয়া
খালি পেটে থাকলে বমি বমি ভাব আরও বেড়ে যায়। তাই একবারে বেশি না খেয়ে প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পর পর অল্প অল্প করে খাবার খাওয়া উচিত। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে।
-
সহজে হজমযোগ্য খাবার: টোস্ট, ক্র্যাকার্স, সাদা ভাত, দই, খিচুড়ি বা কলা।
৩. শরীর হাইড্রেটেড বা আর্দ্র রাখা
পানিশূন্যতা বমি বমি ভাবের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। একবারে বেশি পানি না খেয়ে সারাদিন ধরে চুমুক দিয়ে অল্প অল্প পানি পান করুন।
-
পানির পাশাপাশি ডাবের পানি, পরিষ্কার স্যুপ, লেবুর পানি বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওরস্যালাইন খাওয়া যেতে পারে।
৪. পুদিনার ব্যবহার
পুদিনা পাতার সুগন্ধ কিংবা পুদিনা চা বমি ভাব দূর করতে দারুণ ভূমিকা রাখে। তবে যাদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা গ্যাসের সমস্যা আছে, পুদিনা তাদের বুক জ্বালাপোড়া বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই বুঝেশুনে পরিমিত পরিমাণে এটি ব্যবহার করুন।
৫. আকুপ্রেশার ব্যান্ড
গবেষণায় দেখা গেছে, কব্জির ভেতরের দিকে ‘P6’ (নেইগুয়ান) বিন্দুতে চাপ প্রয়োগ করলে বমি ভাব কমে আসে। এর জন্য বাজারে পাওয়া যাওয়া বিশেষ আকুপ্রেশার রিস্টব্যান্ড ব্যবহার করা যেতে পারে, যা সম্পূর্ণ নিরাপদ।
৬. তীব্র গন্ধ বা উদ্দীপক এড়িয়ে চলা
গর্ভাবস্থায় যেকোনো গন্ধের প্রতি সংবেদনশীলতা অনেক বেড়ে যায়। তাই যেসব খাবার, পারফিউম বা রান্নার কড়া গন্ধে বমি আসে, সেগুলো থেকে দূরে থাকুন। গরম খাবারের চেয়ে ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার খাবারে গন্ধ কম ছড়ায়, তাই গর্ভাবস্থায় ঠান্ডা খাবার খাওয়া বেশি আরামদায়ক হতে পারে।



