কাঁদলেন রোনালদো, জয় উৎসর্গ করলেন প্রয়াত জোটাকে

ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ইউরোর শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ম্যাচ শেষে প্রয়াত সতীর্থ দিওগো জোটার কথা স্মরণ করে অশ্রুসিক্ত হন তিনি।
আমেরিকায় যখন পর্তুগাল এই জয় উদযাপন করছে, তার ঠিক একদিন পরই (আজ ৩ জুলাই) জোটার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। তাই ম্যাচ জয়ের পর অফিসিয়াল ফটো সেশনে রোনালদো দাঁড়ালেন জোটার ফেলে যাওয়া ‘২১ নম্বর’ জার্সিটি হাতে নিয়ে।
ছবি তোলার পর পর্তুগাল অধিনায়ক নিজেই জোটার জার্সিটি গায়ে পরেন। এরপর আকাশের দিকে আঙুল উঁচিয়ে প্রয়াত সতীর্থকে স্মরণ করেন। পরবর্তীতে মাঠে ল্যাপ অব অনারের সময় নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা; মাঠেই কেঁদে ফেলেন তিনি।
ম্যাচ শেষে অফিশিয়াল ব্রডকাস্টার ‘স্পোর্ট টিভি’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেন:
“আমি বেশ আবেগাপ্লুত ও বিস্মিত ছিলাম, কারণ আজকের দিনটির একটি বিশেষত্ব রয়েছে। আমরা জানি সে (জোটা) ওপর থেকে আমাদের দেখছে এবং সে আমাদের সঙ্গেই আছে। তাকে সেরা উপায়ে সম্মান জানাতে আজ আমাদের জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না।”
ম্যাচের স্টপেজ টাইমের চতুর্থ মিনিটে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করা ফরোয়ার্ড গনসালো রামোস বলেন, “প্রতিদিন আমাদের জন্য বিশেষ, কারণ আমরা প্রত্যেক দিন জোটাকে নিয়ে কথা বলি। সে আমাদের ভেতর থেকে শক্তি দেয়। আজকের জয় এবং প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছানো আমাদের জন্য খুবই স্পেশাল।”
আরেক ফরোয়ার্ড রাফায়েল লিয়াও যোগ করেন, “আবেগ সত্ত্বেও আমরা সবসময় বিশ্বাস করতাম, একদম শুরু থেকেই আমাদের বিশ্বাস ছিল। তবে এর সঙ্গে আজ একটি বাড়তি অনুভূতির বিষয় ছিল— দিওগো জোটা। সে সবসময় আমাদের সঙ্গে আছে এবং আমাদের সাহায্য করছে।”
| বিবরণ | দুর্ঘটনার তথ্য |
| দুর্ঘটনার তারিখ | ৩ জুলাই, ২০২৫ (স্থানীয় সময় রাত ১২:৪০ মিনিট) |
| স্থান | স্পেনের জামোরা প্রদেশের সানাব্রিয়ার এ–৫২ মহাসড়ক |
| কী ঘটেছিল | ভাই আন্দ্রে-কে নিয়ে নিজেই ল্যাম্বরগিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন জোটা। গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে আগুন ধরে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ভাইসহ নিহত হন ৩০ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ তারকা। |
গত বছরের এই দিনে ঘটে যাওয়া সেই ট্র্যাজেডিকে কাঁধে নিয়েই আজ মাঠের লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়াকে বিদায় করল পর্তুগাল, আর প্রিয় সতীর্থকে দিল যোগ্য সম্মান।



