ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস স্ক্রলিং করলে শরীরে কী কী ঘটে?

একটু অবসর পেলেই স্মার্টফোনে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের রিলস স্ক্রল করা এখন নিত্যদিনের অভ্যাস। শুধু তরুণ প্রজন্মই নয়, একা থাকার একঘেয়েমি কাটাতে পঞ্চাশোর্ধ্ব বা প্রবীণরাও এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বুঁদ হয়ে থাকছেন শর্ট ভিডিও কিংবা অনলাইন লুডোর নেশায়।

আপাতদৃষ্টিতে একে সাধারণ বিনোদন মনে হলেও, এর অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, প্রবীণদের ফোন ব্যবহারের পুরোটাই নেতিবাচক নয়। দূর-দূরান্তের আত্মীয়দের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলা কিংবা অনলাইনে লুডো খেলার মতো সামাজিক যোগাযোগ তাদের মস্তিষ্ককে সচল রাখতে এবং একাকীত্ব দূর করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

মনোবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, সমস্যা তখনই শুরু হয় যখন ফোন ঘাঁটাই জীবনের একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়ায়। একটানা রিলস দেখার কারণে অনেকেই বিকেলের নিয়মিত হাঁটাচলা বন্ধ করে দিচ্ছেন, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দিচ্ছেন এবং রাত জেগে ফোন ব্যবহার করছেন।

অতিরিক্ত স্ক্রলিং এবং রিলসের আসক্তি স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক কুপ্রভাব ফেলে:

  • শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা: দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে স্ক্রিন দেখার ফলে শারীরিক নড়াচড়া কমে যায়। এতে স্থূলতা (ওজন বৃদ্ধি) এবং হাড় ও জয়েন্টের সমস্যা দেখা দেয়।

  • ঘুমের দফারফা: স্ক্রিনের ক্ষতিকর নীল আলো (Blue Light) শরীরে ‘মেলাটোনিন’ নামক ঘুম উৎপাদনকারী হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয়। ফলে রাতে সময়মতো ঘুম আসে না এবং অনিদ্রার সমস্যা তৈরি হয়।

  • মনোযোগের ঘাটতি: ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের শর্ট ভিডিও ক্রমাগত দেখার কারণে মস্তিষ্ক অল্পতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে গভীর বা দীর্ঘ কোনো বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা ধীরে ধীরে লোপ পায়।

  • মানসিক অবসাদ ও খিটখিটে ভাব: অনবরত ভিডিও দেখার পর সাময়িক আনন্দ মিললেও, দিনশেষে অবচেতন মনে এক ধরনের একাকীত্ব, শূন্যতা ও খিটখিটে মেজাজ তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: প্রযুক্তির ব্যবহার অবশ্যই থাকবে, তবে তা যেন আসক্তিতে রূপ না নেয়। শরীর ও মন সুস্থ রাখতে দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় প্রযুক্তির বাইরে গিয়ে বই পড়া, বাগান করা কিংবা পরিবারের সঙ্গে সরাসরি আড্ডা দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

Related Articles

Back to top button