আ. লীগ ও ‘গুপ্ত’ দল যৌথভাবে চক্রান্ত করছে: রুহুল কবির রিজভী


বিরোধী দল জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও একটি ‘গুপ্ত দল’ যৌথভাবে চক্রান্ত ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। পরাজিত শক্তি ও ওই দলের আচরণ এবং কথাবার্তায় শতভাগ মিল রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, অতীতের মতো এখনও তারা বিএনপির বিরুদ্ধে ক্রমাগত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ শেষে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে রিজভী অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ ছিল একটি প্রতিষ্ঠিত অপপ্রচারকারী দল, যার সাথে এখন যুক্ত হয়েছে আরেকটি গুপ্ত দল। এই দুই পক্ষের মধ্যে যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে তার প্রমাণ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, দলটি নিজেরাই অতীতে বলেছিল তারা আওয়ামী লীগকে মাফ করে দেবে। রিজভী আরও বলেন, অতীতে বিএনপিকে জঙ্গি দল হিসেবে চিত্রায়িত করার এবং ক্ষমতায় এলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিরাপদ থাকবে না বলে মিথ্যা প্রচার চালানো হতো। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার প্রমাণ করেছে যে সরকার সতর্ক থাকলে কোনো চক্রান্তকারী তাদের নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা দিনরাত কাজ করে প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় গত ১৭-১৮ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে, যা প্রতিবেশী দেশের দর্শনার্থীদের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার ও বিএনপির পক্ষ থেকে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খ্যাতনামা চিকিৎসকদের পরামর্শে তৈরি সচেতনতামূলক লিফলেট সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে, যা অনেকটা ব্যবস্থাপত্রের (প্রেসক্রিপশন) মতো কাজ করবে। এছাড়া ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিরা যাতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পান, সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে, পর্যাপ্ত স্যালাইনের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, সরকার যেসব প্রতিশ্রুতি দেয় তা নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়ন করে। অর্থনীতিবিদদের বরাত দিয়ে রিজভী বলেন, সরকার প্রবর্তিত ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ড বিতরণের মাধ্যমে চলতি বছরেই দেশে দারিদ্র্যের হার আরও ৫ শতাংশ কমে যাবে, যা তারেক রহমানের সরকারের একটি বড় অর্জন। উক্ত লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল হক বাবুল, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপুসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




