অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে বাংলাদেশের পদক্ষেপ ইইউকে জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সোমবার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অভ্যন্তরীণ বিষয় ও অভিবাসন বিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার।
দ্বিপাক্ষিক এই আলোচনায় অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, প্রত্যাবাসন, মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
সাক্ষাৎকালে প্রতিমন্ত্রী নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি নিয়মিত অভিবাসন উৎসাহিত করতে একটি বাস্তবসম্মত, চাহিদা-ভিত্তিক ও ফলাফল-মুখী ‘মোবিলিটি করিডোর’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবীদের জন্য সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ‘নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন বিষয়ক গ্লোবাল কমপ্যাক্ট’-এর লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে সরকারের গৃহীত ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২৬-২০৩০’-এর নানা দিক তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, ইইউ কমিশনার ‘ইস্টার্ন করিডোর ইনিশিয়েটিভ’ উপস্থাপন করেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো উৎস ও ট্রানজিট দেশ এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসন রোধ করা।
প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন এবং অনিয়মিত অভিবাসন রোধে নথিপত্র জালিয়াতি ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সরকারের গৃহীত কঠোর পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন। পাশাপাশি নিয়মিত অভিবাসনের পথ সুগম করতে অনিয়মিত অভিবাসনের মূল কারণগুলো সমাধানের ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
উভয় পক্ষই অভিবাসন সংকট সামগ্রিকভাবে মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া, প্রতিমন্ত্রী ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বহুমুখী অংশীদারিত্ব জোরদারে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথা জানান এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ধারাবাহিক আলোচনা ও নিবিড় সহযোগিতা বজায় রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।




