গাইবান্ধায় জরিমানার পরও বন্ধ হচ্ছে না অসুস্থ গরু জবাই, অ্যানথ্রাক্স আতঙ্কে ৫৮ জন আক্রান্ত


জরিমানা, মাংস জব্দ ও প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান সত্ত্বেও গাইবান্ধায় থেমে নেই অসুস্থ গরু জবাই। জেলাজুড়ে একের পর এক অসুস্থ পশু জবাই করে মাংস বিক্রির ঘটনা সামনে আসায় দিন দিন বাড়ছে মারাত্মক রোগ অ্যানথ্রাক্সের ঝুঁকি। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮ জনে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বাছোহাটি গ্রামে একটি অসুস্থ ফ্রিজিয়ান গাভী জবাই করা হয়। সেখানে মাংস কাটাকাটিতে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষের শরীরে ফোসকা দেখা দিলে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঢাকা ও রংপুরের ‘রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট’ (আইইডিসিআর)-এর একটি তদন্ত দল সরেজমিনে এসে নমুনা পরীক্ষা করে আক্রান্তদের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপস্থিতি নিশ্চিত করে।
এই ঘটনার পর তৎপর হয়ে ওঠে জেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ। একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিভিন্ন স্থানে জরিমানা আদায় ও জব্দকৃত মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। গত ৩ অক্টোবর সুন্দরগঞ্জের হরিপুর ইউনিয়নে হোসাইন মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর একই উপজেলার উত্তর সাহাবাজ গ্রামে অসুস্থ গরু জবাইয়ের দায়ে রফিকুল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা এবং মেডিকেল সনদ ছাড়া পশু জবাই করায় বিভিন্ন বাজারের ছয়জন কসাইকে মোট ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই দিনে সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাটে ৪৫ কেজি অসুস্থ গরুর মাংস জব্দের পাশাপাশি মাংস ব্যবসায়ী জেলাল শেখকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
প্রশাসনের এসব অভিযানে সাময়িক স্বস্তি মিললেও জনমনে উদ্বেগ ও সংশয় কমেনি। স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, অসুস্থ পশু জবাইয়ের পর কেন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, জবাই করার আগেই তা কেন শনাক্ত করা যাচ্ছে না। একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ে পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা না পৌঁছানোয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের দায়িত্বশীলতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় খামারি ও কৃষকরা।
অভিযোগের জবাবে সুন্দরগঞ্জ ও সাদুল্লাপুর উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জোবাইদুল কবীর জানান, জেলায় নতুন করে এক লাখ চার হাজার অ্যানথ্রাক্স ভ্যাকসিন বরাদ্দ পাওয়া গেছে। দপ্তরের তীব্র জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, কেবল আইন প্রয়োগ নয়, কসাই, খামারি ও ভোক্তাদের সম্মিলিত সচেতনতাই এই প্রবণতা বন্ধ করতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সুন্দরগঞ্জের বেলকা ইউনিয়নে অসুস্থ গরু জবাইয়ের পর অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোজিনা বেগম নামের এক নারীর মৃত্যু হয়।




