শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল ফ্রান্স, পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ

নিরাপদ ও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ এবং শিক্ষা খাতে সরকারি অর্থায়নের দাবিতে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর রূপ নিয়েছে। আন্দোলনের মুখে সহিংস পরিস্থিতি তৈরিতে দেশজুড়ে অন্তত ৪০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। স্ট্রার্সবার্গে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। অপরদিকে মার্সেইতে পুলিশের দিকে আতশবাজি (ফায়ারওয়ার্কস) ছোড়ে শিক্ষার্থীরা এবং রেঁসে ময়লার গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। রাজধানী প্যারিসেও পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের থেমে থেমে সংঘর্ষ ও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

ফ্রান্সে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের নেওয়া বাজেট ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের প্রভাব শিক্ষা খাতে পড়লে এই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, গত সপ্তাহে প্যারিস থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে, যাদের বড় অংশই কিশোর-কিশোরী।

দেশের চলমান সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির জন্য আটককৃতদের অভিভাবকদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের কথা বলেছেন। পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী এডোয়ার্ড জেফরে বাবা-মায়েদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন সন্তানদের যেন আন্দোলনের মধ্যে বাইরে বের হতে না দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের দাবি— পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে শ্রেণিকক্ষে আসনসংকটসহ নানা অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে। শিক্ষাখাতে দ্রুত বাজেট ও বরাদ্দ বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছে তারা।

Related Articles

Back to top button