জ্বালানির বাড়তি কর বাতিলের দাবিতে পাকিস্তান জামায়াতের ট্রেন মার্চ: ইসলামাবাদের প্রবেশপথে কন্টেইনার

জ্বালানি তেলের ওপর অতিরিক্ত কর প্রত্যাহারের দাবিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে ‘ট্রেন মার্চ’ কর্মসূচি শুরু করেছে দেশটির অন্যতম প্রধান ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী (জেআই)।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) করাচির ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলটির আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান। অনতিবিলম্বে বাড়তি কর বাতিল করা না হলে এই আন্দোলন সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে রূপ নেবে বলে তিনি হুশিয়ারি দেন।

সড়ক ও রেলপথে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে এই বহর হায়দরাবাদ, লান্ধি, নওয়াবশাহ, রুহড়ি ও সুক্কুর হয়ে রাজধানীর দিকে এগোচ্ছে। সুক্কুরের রুহড়িতে গণসমাবেশ শেষে সোমবার সকালে তারা মুলতানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। হাফিজ নাঈম জানান, মূল্যস্ফীতিতে পিষ্ট সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।

লিটারপ্রতি জোরপূর্বক আদায় করা ১০০ রুপির বেশি বাড়তি কর তুলে নিলে তেলের দাম ২০০ রুপির কাছাকাছি চলে আসবে। ১ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই আন্দোলনের মধ্যে সরকার বলপ্রয়োগ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বলে তিনি হুশিয়ার করেন। এর আগে শনিবার সরকারের প্রতিনিধিদল আন্দোলন স্থগিত করার অনুরোধ জানালেও জামায়াত তা প্রত্যাখ্যান করে।

এদিকে কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে পৃথক বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। জামায়াত ও পিটিআইয়ের পরপর দুটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে ইসলামাবাদে।

যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাজধানীর প্রবেশপথ ও প্রধান সড়কগুলোতে শত শত কন্টেইনার বসিয়ে পথ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে বড় ধরনের সংঘর্ষ বা হতাহতের আশঙ্কায় ইসলামাবাদের প্রধান দুটি সরকারি হাসপাতাল—পিমস (PIMS) ও পলিক্লিনিক হাসপাতালে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে এবং সব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button